kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে গুরুত্ব পাবে বহুপক্ষীয় ইস্যু

মেহেদী হাসান   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটে’ অংশ নিতে আগামী ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের কথা রয়েছে। ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনে বহুপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু প্রাধান্য পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী মাসে ব্রিকস সম্মেলনের সময় বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

ওই কূটনীতিক আরো বলেন, ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটে মূল লক্ষ্য থাকবে বহুপক্ষীয় বিষয়াদি। তাই বিমসটেকের বিষয়াদিই সেখানে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিট উপলক্ষে স্বাগতিক ভারত ছাড়াও ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের নেতারা গোয়ায় সমবেত হবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রীতি অনুযায়ী প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা বৈঠক করলেও এবার তা হচ্ছে না। কারণ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাচ্ছেন না। তাই আগামী মাসে ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটের ফাঁকেই বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীরা বৈঠক করবেন। সেখানে অবশ্যই অন্য অনেক ইস্যুর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয় আসবে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মূল লক্ষ্য বহুপক্ষীয়ই থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রায় সাত দশকের পুরনো ছিটমহল বিলুপ্ত করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে স্থলসীমান্ত সমস্যা সমাধান করে দুই দেশ বিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, মানুষে মানুষে যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর এখনো বাকি।

ভারত এ পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অভ্যন্তরীণ ঐক্যমত সৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করার কথা বলছে। তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশ ভারতের ওপর এ বিষয়ে আস্থা রাখলেও দ্রুত ওই চুক্তি সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ও প্রত্যাশা জানিয়ে আসছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আসন্ন বৈঠকেও বাংলাদেশ এ প্রত্যাশার বিষয়টি তুলে ধরতে পারে। এ ছাড়া দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রতি ভারত পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে নিরাপত্তা ইস্যুতেও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য