kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঈদের ছুটিতে ঢাকা ফাঁকা

বেপরোয়া প্রাইভেট কার কেড়ে নিল দম্পতির প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদের ছুটির মধ্যে রাজধানীর শেওড়াপাড়া এলাকায় ফাঁকা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণহীন একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় এক প্রবীণ দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আতাউর রহমান (৭০) ও তাঁর স্ত্রী রওশন আরা (৬০)।

গত বুধবার ভোরে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে হাজী আশরাফ আলী মার্কেটের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আবেদ আলী নামের এক পান দোকানিও আহত হন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে, কোরবানির মাংস নিয়ে বৃদ্ধ দম্পতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। বেপরোয়া গতিতে আসা প্রাইভেট কারটি (ঢাকা মেট্রো-গ ২১-৮৫৭১) রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দম্পতিকে ধাক্কা দেয়। গাড়িটি রওশন আরাকে ঠেলে প্রায় ২০ হাত দূরে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দম্পতি মারা গেলে ওই গাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায় বেপরোয়া তিন যুবক। পরে ওই গাড়ি থেকে চারটি মদের বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ওই গাড়িটির মালিক শাহীনবাগ এলাকার আশিকুর রহমান খান নামের এক ঠিকাদার। তাঁর ছেলে নাফিস খান ওরফে অনি ও তাঁর বন্ধুরা ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন। তাঁদেরই কেউ একজন প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন। তাঁরা সবাই মদ্যপ ছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

কাফরুল থানার ওসি সিকদার মুহাম্মদ শামীম হোসেন জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা আতাউর রহমান পূর্ব শেওড়াপাড়ার ৯২১ নম্বর বাসায় থাকতেন। বুধবার ভোরে কোরবানির মাংস নিয়ে মোহাম্মদপুরে মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য তিনি স্ত্রীকে নিয়ে বের হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, ভোর ৬টা ৯ মিনিটের দিকে শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ফুটপাতে তাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ওই সময় কাজীপাড়ার দিক থেকে আসা গাড়িটি বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাঁদের ধাক্কা দেয়।

ওসি সিকদার মুহাম্মদ শামীম হোসেন আরো বলেন, ‘গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। মামলা হচ্ছে। আমরা সব কিছুরই সন্ধান পেয়েছি। এখন ধরার অপেক্ষায়। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না। ’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গাড়ির ভেতরে চারটি মদের বোতল পাওয়া যায়, যার মধ্যে তিনটি খালি ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িতে থাকা তিন যুবকই মদ্যপ ছিলেন। তাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। পুলিশ বাংলাদেশ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিতে (বিআরটিএ) খোঁজ নিয়ে গাড়িটির মালিকের তথ্য পেয়েছে। গাড়িটি ২০০৮ সালে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এরপর লিখিতভাবে দুইবার মালিকানা পরিবর্তন হয় গাড়িটির। আগের মালিক ছিলেন হাসান হায়দার। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ না হলেও তাঁর কাছ থেকে গাড়িটি নাঈম নামের এক ব্যক্তি কেনেন, যিনি পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। নাঈমের কাছ থেকে গাড়িটি কেনেন আশিকুর রহমান খান, যিনি পেশায় ঠিকাদার। তাঁর পরিচয়পত্রটি প্রাইভেট কারের ভেতর পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, আশিকুর রহমান খানের বাসা তেজগাঁওয়ের শাহীনবাগ এলাকায়। ঈদের দিন মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাঁর ছেলে নাফিস গাড়িটি নিয়ে বের হন। এ সময় নাফিসের সঙ্গে এক বন্ধু ছিলেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তিনি গাড়ি ছাড়াই শাহীনবাগের বাসায় ফেরেন। ঘণ্টাদুয়েক পর মা-বাবার সঙ্গে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

নিহত দম্পতির ছেলে মোহাম্মদ রায়হান বলেন, বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শেওড়াপাড়া কবরস্থানে তাঁর মা-বাবার লাশ দাফন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা আমাদের মামলা করতে হবে কি না তা পুলিশ জানায়নি। কারা জড়িত তাও জানি না। ’

পথচারী নিহত : এদিকে গত মঙ্গলবার ঈদের দিন বিকেলে রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় পিন্টু শেখ (২৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, রাস্তা পারাপারের সময় বাসটি পিন্টুকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাবার নাম আব্দুল হামিদ শেখ। গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটে। রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা জানান, বাসটি আটক করা হলেও এর চালক পালিয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চলছে।


মন্তব্য