kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাজিতপুরের ডাকাত ফুদুর গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাজিতপুরের ডাকাত ফুদুর গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধে নিহত

ফুদুর আলী

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকার ত্রাস ফুদুর আলী ওরফে রিপন (৩৬) গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। আগের রাতে তাকে নরসিংদীর বেলাব এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পরে অস্ত্র উদ্ধারে সাদিরচর গ্রামে গেলে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রিপন নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বিদেশি বন্দুক, দুটি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। ফুদুর আলী রিপন আন্তজেলা ডাকাতদলের সদস্য এবং হত্যা-ডাকাতিসহ ২০ মামলার আসামি বলে পুলিশ দাবি করেছে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি পরোয়ানা রয়েছে।

বাজিতপুর থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, বুধবার বিকেলে পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম নরসিংদীর বেলাব থেকে ফুদুর আলীকে গ্রেপ্তার করে। সেখানে বাগানবাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সে অবস্থান করছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ফুদুর আলী দাবি করে, শ্বশুর নান্নু মিয়ার বাড়ির কাছে গাজিরচর ইউনিয়নের সাদিরচরে আগ্নেয়াস্ত্র লুকানো আছে। পুলিশের একটি দল অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ভোররাত ৩টায় দিকে সাদিরচর গ্রামে গেলে গুলির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ফুদুর আলীর নেতৃত্বাধীন ডাকাতদলের সদস্য চঞ্চলসহ সহযোগীরা এ হামলা চালিয়েছে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ফুদুর আলী নিহত হয়। এ সময় এসআই আমিরুল ইসলামসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। গুলির মুখে সন্ত্রাসীরা চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কালের কণ্ঠকে বলেন, ফুদুর আলী এক ভয়ংকর সন্ত্রাসীর নাম। তার অপরাধে মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যুতে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, ফুদুর আলী পেশাদার ডাকাত। আন্তজেলা ডাকাতদলের হয়ে সে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, ভৈরব, নরসিংদীর বেলাব, রায়পুরা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, সরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় খুন, রাহাজানি ও ডাকাতি করে বেড়াত। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ফুদুর আলীর অত্যাচার বেড়েই চলছিল। তার বাহিনীর সদস্যরা পৌর শহর বাজিতপুরে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ডাকাতির পাশাপাশি নারীদের পাশবিক নির্যাতন করেছে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। বাজিতপুর শহরের সাত-আটটি মহল্লার বাসিন্দারা কয়েক বছর ধরে রাত জেগে নিজেরাই পাহারার ব্যবস্থা করেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা চুরি ছাড়াও ছিনতাই ঘটনাতেও ফুদুর আলীর নাম এসেছে। নানার বাড়ি শহরের দড়িঘাগটিয়া এলাকায় বেশি অপরাধমূলক কাজ করেছে সে। সেখানে একটি টর্চার সেল রয়েছে বলেও এলাকাবাসী জানায়। ফুদুরের নিজের বাড়ি বাজিতপুরের নিলখী গ্রামে। বাবা মুর্শিদ মিয়া ‘ঘরজামাই’ ছিলেন। তিনি মারা গেছেন। দড়িঘাগটিয়াতেই ফুদুর আলীর উত্থান। সেখানে অনেককে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল এ বাড়িতে মুক্তা নামে এক নারীকে হত্যার পর লাশ আট টুকরো করে পাশের ডোবায় পুঁতে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় ফুদুর আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী অঞ্জনা ও প্রধান সহযোগী চঞ্চলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। চঞ্চল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। ২০১২ সালে গাছ ব্যবসায়ী নাজনু মিয়াকে জবাই করে হত্যার পর লাশটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফুদুরের বিরুদ্ধে। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে নরসিংদীর বেলাবতে ডাকাতি করার সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল ফুদুর। জিজ্ঞাসাবাদকালে সে পুলিশকে পিটিয়ে হাজত থেকে পালিয়ে যায়।

দড়িঘাগটিয়ার বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, ফুদুর আলীর মৃত্যুতে এলাকাবাসী আনন্দিত। গ্রামের বহু পরিবার দোয়া করছে। অনেকের মানত রয়েছে। অনেক মানুষ নিঃস্ব তার দুস্যতার কারণে।

পুলিশের দাবি, ফুদুর আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি হত্যাসহ অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। ছয়টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় ফুদুর আলীর লাশ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। সেখানে এলাকাবাসী লাশ দাফনে বাধা দেয়। পরে পুলিশ পৌর কাউন্সিলরের সহায়তায় সরকারি কবরস্থানে

লাশ দাফন করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


মন্তব্য