kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভবদহে ঈদ আনন্দ শেষ

জলাবদ্ধতায় দিশাহারা মানুষ

ফখরে আলম, যশোর   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পানিবন্দি হয়ে আছে ভবদহের লক্ষাধিক মানুষ। ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য নেই শুকনো মাঠ।

বেশির ভাগ ঈদগাহ পানির নিচে। উঁচু রাস্তার ওপরে ঈদের নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত হলেও কার্যত ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে পানিবন্দিদের। জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে আশ্রয়হীনরা এখনো আশ্বস্ত হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেনি। সরেজমিন ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে এ চিত্র।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালী বলেন, ‘স্কেভেটরে পলি অপসারণের পর এ পর্যন্ত দুই/চার ইঞ্চি পানি কমেছে। হরি ও হরিহর নদীর পলি অপসারণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরো চারটি স্কেভেটর দিয়ে খনন করা প্রয়োজন। আমরা ত্রাণ চাই না। পানি সরালে তবেই মানুষ বাঁচবে, আবার শুরু হবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ’

অতিবৃষ্টি ও বানের পানির প্রভাবে এক মাস ধরে ভবদহ অধ্যুষিত অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুরের প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। লক্ষাধিক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ ঈদগাহ মাঠ পানির নিচে তলিয়ে আছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে স্কেভেটরের সাহায্যে পলি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। তাতে পানি সরছে খুব ধীরে ধীরে।

মণিরামপুর উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। শ্যামকুড় ইউনিয়নে প্রতিবছর ১৪টি স্থানে ঈদের জামাত হয়। কিন্তু এবার মাত্র পাঁচটি স্থানে ঈদের জামাত হবে। ৯টি ঈদগাহ মাঠ পানিতে তলিয়ে আছে। হাসাডাঙ্গা মধ্যপাড়া ঈদগাহ, হাসাডাঙ্গা বটতলা ঈদগাহ, আমিনপুর ঈদগাহ, দক্ষিণ খানপুর ঈদগাহ—সবই পানির নিচে। ঈদ নিয়ে যখন সবাই খুশির আমোদে, তখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হয়ে পড়েছে দিশাহারা।

হাসাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, ‘কোথায় ঈদের নামাজ পড়ব? আমাদের বাড়িঘর, মাঠ-ঘাটে শুধু পানি আর পানি। ’ নাগরঘোপ গ্রামের ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ঈদগাহ মাঠে হাঁটুপানি। ঈদের জামাত কোথায় হবে তা জানি না। ’

ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ৯টি ঈদগাহ মাঠ পানির নিচে। আমরা গ্রামের আশপাশে উঁচু ইটের রাস্তার ওপর ঈদের নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

কেশবপুর উপজেলার ৭৬টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষের অবস্থান এখন ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ রাস্তার ওপর। সাংবাদিক নূরুল ইসলাম বলেন, বেশির ভাগ ঈদগাহে পানি। মধ্যকুল ঈদগাহ মাঠে হাঁটু সমান পানি। এখানকার মুসল্লিরা যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের উঁচু স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্য গ্রামগুলোতেও উঁচু স্থানের মসজিদ ও সড়কে ঈদের নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অভয়নগর উপজেলায়ও ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। জলাবদ্ধতার শিকার এসব মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চায় যশোর পৌরসভা। মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষের জন্য পৌরসভার চারটি স্থানে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করা হবে। পরে সেই মাংস আমরা পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিতরণ করব। ’

 


মন্তব্য