kalerkantho


উত্তরাঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীদের ২০০ কোটি টাকা বকেয়া

এবারও ভারতে চামড়া পাচার হবে

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বছর ঘুরে আবার ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেও গত বছরের কোরবানির পশুর চামড়ার বকেয়া টাকা আজও পাননি উত্তরাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ট্যানারিগুলোতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে তাঁদের।

ঈদের আগে এই টাকা না পেলে এবার চামড়া কেনা তাঁদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে যাবে। আর এই অবস্থায় এবারও ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ট্যানারি মালিকদের সমিতি ব্যবসায়ীদের এই বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। সমিতি বলেছে, ট্যানারি মালিকরা বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি চামড়া কেনেন না। সেই ক্ষেত্রে বকেয়া থাকার কথা নয়।

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, রংপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন। নানা অজুহাতে গত কয়েক বছরের চামড়ার টাকা বকেয়া রেখে দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। কোনো কোনো ট্যানারি মালিকের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

রংপুরের চামড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাশেম মুন্সি দুই কোটি টাকা, খায়ের মিয়া ও শওকত মিয়া প্রায় দুই কোটি টাকা পাবেন বেঙ্গল ট্যানারির কাছে। আবুল হোসেনের প্রায় ৫০ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে ঢাকার এশিয়া ও রওশন ট্যানারির কাছে। ইস্ট এশিয়া ট্যানারির কাছে আজগর মিয়া পাবেন ৩০ লাখেরও বেশি টাকা। শহীদ মিয়া ও আবদুর রহমান ঢাকার হাইড ট্যানারির কাছে পাবেন ৪৫ লাখ টাকা। মোশারফ হোসেন, মমিন মিয়া ও একরামুল হকের এক কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে কিষান ট্যানারির কাছে। আফজাল মিয়া ১৬ লাখ টাকা পাবেন ভাই ভাই ট্যানারির কাছে। ইব্রাহিম মোল্লা বিএল ট্যানারির কাছে পাবেন ১০ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে বেঙ্গল, রওশন, ইস্ট এশিয়া, এনাম, সামিনা ট্যানারিসহ বেশ কয়েকটি ট্যানারি বন্ধ হয়ে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান।

এ ছাড়া দিনাজপুরের ৩০ ব্যবসায়ীর পাঁচ কোটি, বগুড়ার অর্ধশত ব্যবসায়ীর ১২ কোটি, নওগাঁর ৩০ ব্যবসায়ীর ১০ কোটি, নাটোরের অর্ধশত ব্যবসায়ীর ১৪ কোটি, রাজশাহীর ২৫ ব্যবসায়ীর ১২ কোটি টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পড়ে আছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, বেঙ্গল ট্যানারি, এশিয়া ট্যানারি, কাজী কাদের ট্যানারি, সামিনা ট্যানারি, ইস্ট এশিয়া ট্যানারি, ভাই ভাই লেদার, ভাই ভাই ট্যানারি, আকিজ ট্যানারিসহ বিভিন্ন ট্যানারির কাছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরনা দেওয়ার পরও এসব ট্যানারি তাঁদের বকেয়া পরিশোধ করছে না।

দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আকতার আজিজ জানান, ট্যানারি মালিকরা সরকারি ঋণসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। কিন্তু এই সুবিধা পান না চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবার ঈদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা টাকার অভাবে কিনতে না পারলে চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল লতিফ খান জানান, শেষ পর্যন্ত সরকার চামড়ার দরও নির্ধারণ করে দিয়েছে। তার পরও পুঁজির অভাবে কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে পারবেন না এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা। এই সুযোগ নেবে চোরাকারবারিরা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. শাহীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছরই ঈদুল আজহার আগে এ ধরনের অভিযোগ ওঠে। এটা আসলে ঠিক নয়। ’ তিনি বলেন, বাইরের চামড়া ব্যবসায়ীরা ঢাকার আড়তে চামড়া দেন। সেই আড়ত থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনেন। সে কারণে বাইরের চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি লেনদেন নেই।

শাহীন আহমেদ আরো বলেন, ‘আড়তদাররা বাইরের ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ না করলে তার দায় আমাদের নয়। ’ তিনি জানান, ট্যানারি মালিকরা আড়তদের গত বছরের বকেয়া পাওনার প্রায় এক শ ভাগ পরিশোধ করেছেন।


মন্তব্য