kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট পদ্মায় বিলীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট পদ্মায় বিলীন

পদ্মার দুই প্রান্তের ফেরিঘাটে গতকাল রবিবারও যাত্রীবাহী গাড়ির প্রচণ্ড চাপ ছিল। ছিল বিড়ম্বনা আর ভোগান্তি।

এর মধ্যে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে ৩ নম্বরটি ভাঙনের কারণে আবার অচল হয়ে গেছে। সেটা মেরামতের চেষ্টা চলছে। একাধিকবার ভাঙনের মুখে পড়া অন্য তিনটি ঘাট কোনো রকমে সচল রাখা হয়েছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের খবরে :

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত শনিবার বিকেলে ভাঙনের কবলে পড়ে ৩ নম্বর ঘাটটি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ৪ নম্বর ঘাট পন্টুনের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তৈরি করা পাইলিং ও সংযোগ সড়কের সিংহভাগ ভেঙে গেছে। যেকোনো সময় ওই ঘাটটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘাটসংকট মোকাবিলায় ৩ নম্বর ফেরিঘাটের ১০০ মিটার উজানে নতুন করে একটি ঘাট নির্মাণের কাজ চালাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। পাশাপাশি এলাকার ভাঙনরোধে গতকাল থেকে মাঠে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগে দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ পথে কয়েক হাজার বিভিন্ন গাড়িসহ লক্ষাধিক যাত্রী নদী পারাপার হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) আরিচা অঞ্চলের ম্যানেজার (মেরিন) মো. আব্দুস সোবাহান জানান, দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাটের পাশে পদ্মা নদীর উজানে বিশাল একটি চর ছিল। ওই চর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকাকে ভাঙনের হাত থেকে আগলে রাখত। অথচ গত বছর বর্ষা মৌসুমে প্রচণ্ড স্রোতের তোড়ে ওই চরটি পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। তাই এবার  বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উজান থেকে আসা পদ্মার তীব্র স্রোত সরাসরি এসে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় আঘাত হানছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডাব্লিউটিএর সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম জানান, ভাঙনের হাত থেকে ঘাট রক্ষার জন্য এর আগে পাইলিং করে সেখানে বালুভরা অসংখ্য বস্তা ফেলা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি।

রাজবাড়ী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম নুরুন্নবী জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে গতকাল সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন মাঠে নেমেছেন। ২ নম্বর ফেরিঘাট থেকে ৪ নম্বর ফেরিঘাট পর্যন্ত সাড়ে তিন শ মিটার এলাকায় জরুরি ২৫০ কেজি বালুভরা লক্ষাধিক জিও ব্যাগ ফেলে নদীতীর সংরক্ষণের প্রস্তুতি চলছে।

মুন্সীগঞ্জ : লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে গতকালও ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নামে। সকাল থেকে যাত্রীদের চাপ ছিল প্রচুর। প্রাইভেট কারের অতিরিক্ত চাপে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুরের পরে কিছুটা হালকা হলেও যানজট নিরসন হয়নি। তা ছাড়া গত তিন দিন ধরে ট্রাক পারাপার না করায় এ প্রান্তে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। ওপারে কাওড়াকান্দি ঘাটেও ট্রাকের দীর্ঘ সারি রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির ম্যানেজার (বাণিজ্য) মো. গিয়াস উদ্দিন পাটুয়ারী জানান, গত তিন দিন ধরে শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী গাড়ির অতিরিক্ত চাপে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ছোট প্রাইভেট কার ও যাত্রীবাহী বাসের কারণে এ যানজট হয়। তিনি জানান, গতকাল সকালে চাপ থাকলেও বিকেলের দিকে কমে আসে। ঘাটে তেমন যাত্রীবাহী বাস না থাকলেও শতাধিক ছোট ছোট গাড়ি রয়েছে পারাপারের অপেক্ষায়।

এদিকে ঢাকা থেকে বেশির ভাগ যাত্রী লোকাল বাসে করে শিমুলিয়ায় এসে নামছে। এতে লঞ্চ ও সিবোট ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। যাত্রীরা লঞ্চ, সিবোট ও ফেরিতে করে নদী পার হয়ে ওপারে গিয়ে আবার অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে যাচ্ছে। এই সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ইজারাদার লিয়াকত মাতবর বলেন, ‘ভাড়া বেশি নেওয়ার কথা নয়। নিয়ে থাকলে আমার জানা নেই। ’

মাদারীপুর : কাওড়াকান্দি ঘাটে তীব্র যানজট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ঘাটে নেমেই অসহনীয় ভোগান্তি আর চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। তীব্র যানজটের কবলে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা। ঘাট এলাকায় আটকে রয়েছে অর্ধশতাধিক গরুবোঝাই ট্রাক।

কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া বাস, মাইক্রোবাস ও অভ্যন্তরীণ রুটের সব যানবাহন পাল্লা দিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। কাওড়াকান্দি থেকে খুলনা পর্যন্ত মাইক্রোবাসগুলো ভাড়া নিচ্ছে জনপ্রতি ৬০০ টাকা, বরিশালে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। লোকাল বাসগুলো অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী বাদ দিয়ে দূরপাল্লার রুটের যাত্রী পরিবহন করছে। এতে করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ৪৫ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত যেতে হচ্ছে যাত্রীদের।

ইয়াসমিন আক্তার নামের এক যাত্রী বলছিলেন, ‘আগে মাইক্রোবাসে নড়াইলে ভাড়া ছিল জনপ্রতি দেড় শ টাকা, সেই ভাড়া এখন চাচ্ছে ৭০০ টাকা। এমন অরাজকতা। প্রশাসনও যেন দেখছে না। ’

খুলনাগামী রায়হান বলেন, ‘অন্যবার ঘাটে পুলিশ থাকে, কিন্তু এবার কোনো পুলিশ দেখছি না। তাই যানবাহনগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। লোকাল কোনো গাড়িই পাচ্ছি না, তাই ২০ টাকার ভাড়া দেড় শ টাকা দিয়ে যাচ্ছি। ’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ বলেন, ‘কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুট হয়ে সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ঘাটে অবস্থান করছে। কোনো ধরনের যাত্রী হয়রানি হলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য