kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চট্টগ্রামে পশুর হাট

বৃষ্টির পর গরুও দাম সহনীয়!

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বৃষ্টিভেজা শরীরে গরুর রশি হাতে গতকাল রবিবার আবদুর রহমান হাসিমুখে ফিরছিলেন নগরের সাগরিকা হাট থেকে। তখন দুপুর সাড়ে ১২টা।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ব্যাপারীরা সকাল থেকে গরুর দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে হাঁকছেন। তাই দরকষাকষি করে পছন্দের গরুটি নিয়ে নিলাম। ’

গতকাল ছিল সাগরিকায় হাটবার। তবে কমবেশি নগরের সব হাটেই গবাদি পশুর আমদানি ছিল লক্ষ করার মতো। গত বছর চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটে গবাদি পশুর সংকট পড়ায় এবার ক্রেতাদের একটু আগেভাগেই কোরবানির পশু কিনে নিতে দেখা গেছে।

গতকাল সকাল ১০টা নাগাদ নগরের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হওয়ার পর থেকে পশুর হাটগুলোয় বিকিকিনি বেড়ে যায়। ব্যাপারীরাও একটু দাম কমিয়ে গরু ছাড়া শুরু করেন।

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) ইয়ংওয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপক আবদুল মাবুদ ও তাঁর বড় ভাই গরু কিনে ফেরার পথে কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যাপারীরা এখন দাম ধরে না রেখে গরু ছাড়ছেন। এত দিন যে গরুর দাম হাঁকা হয়েছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকার ওপরে, আজ (রবিবার) সেই গরু ৯০-৯৫ হাজার টাকা দাম চাইছেন তাঁরা। এতে দরকষাকষি করতে ক্রেতাদেরও সুবিধা হচ্ছে।

মাবুদ জানান, প্রায় সাড়ে তিন মণ ওজনের টকটকে লাল রঙের একটি ষাঁড় কিনেছেন ৮৪ হাজার টাকায়।

দাম কমে যাওয়ার এই আশঙ্কায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। তাই দাম বেশি না হাঁকিয়ে মোটামুটি লাভ হলেই গরু বিক্রি করে বাড়ির পথ ধরছেন তাঁরা।

বাঁশখালীর পূর্ব পুইছড়ি এলাকার মিরাজ আহমদ তিনটি গরু নিয়ে সকালে সাগরিকা হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ভালো দাম পাওয়ার আশায়, ট্রাকে করে নিজের পালিত তিনটি গরু নিয়ে শহরের বাজারে আসলাম। ’

মিরাজ তাঁর গরু তিনটির দাম হাঁকিয়েছেন যথাক্রমে এক লাখ ২০ হাজার, এক লাখ এবং ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার দাম হাঁকানো গরুটি তিনি এক বছর আগে ৫১ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এত দিন লালনপালন করে বড় করেছেন। অন্য দুটি ছোট থেকেই পালছেন। তিনি জানান, গরু পালনে অনেক বেশি খরচ। বড় দুটির পেছনে দিনে কমপক্ষে ২০০ টাকা করে খরচ হয়েছে।


মন্তব্য