kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টাম্পাকোয় ২৯ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর ক্ষোভ

ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো ও নেসেলর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

আবুল কাশেম   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর ক্ষোভ

টাম্পাকো ফয়েলসে বয়লার বিস্ফোরণে গত শনিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। গতকালও চলছিল উদ্ধারকাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

টঙ্গীর প্যাকেজিং কারখানা টাম্পাকো ফয়েলসে অগ্নিকাণ্ডে ২৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনগুলো। বাংলাদেশের কারখানাগুলোয় শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছে তারা।

একই সঙ্গে টাম্পাকো ফয়েলস থেকে পণ্য কেনা দুই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো ও নেসেলর সমালোচনাও করেছে তারা।   

টাম্পাকো ফয়েলসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরাম, ওয়ার্কার্স রাইটস কনসোর্টিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সংগঠন ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন ও কানাডাভিত্তিক ম্যাকুইলা সলিডারিটি নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, বয়লার বিস্ফোরণের ফলে টাম্পাকো ফয়েলসে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ড ও ভবন ধসের ঘটনা বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক করপোরেশনগুলোর ব্যর্থতার প্রমাণ। বৈশ্বিক চেইনগুলো তাদের সাপ্লাই চেইনে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষা দিতে পারছে না। টাম্পাকো ফয়েলসের করপোরেট ওয়েবসাইটে ক্রেতাদের যে তালিকা দেওয়া রয়েছে, তাতে বিশ্বের দুটি বৃহৎ কনজ্যুমার প্রডাক্ট ব্র্যান্ড রয়েছে। এর একটি নেসেল, অন্যটি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি)। এই তথ্য সঠিক হলে এই প্রশ্ন উঠে যে কেন নেসেলও এমন একটি কারখানা থেকে পণ্য কেনে, যারা শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কারখানার বয়লার পরিস্থিতি ইন্সপেকশন করতে পারে না। বহুজাতিক এ ব্র্যান্ড দুটি অন্যান্য দেশে যেসব কারখানা থেকে পণ্য নেয়, সেগুলোর কর্মপরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনগুলো।  

সংগঠনগুলো বলেছে, টাম্পাকো ফয়েলসকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বিএটি ও নেসেলকে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসার জন্যও অর্থ দিতে হবে বহুজাতিক কম্পানি দুটিকে।

বৈশ্বিক শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতের নিরাপত্তাও বয়লার নিরাপত্তার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গার্মেন্ট খাতে বেশ কিছু বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাতে প্রাণহানিও হয়েছে শ্রমিকদের। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে শান্তা এক্সপ্রেশনস লিমিটেডে বয়লার বিস্ফোরণে একজনের প্রাণহানির সঙ্গে চারজন আহত হন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আরএন গার্মেন্টে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন আহত হন। এ ছাড়া গত জানুয়ারি মাসে অ্যাকটিভ জিপার কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন।

রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে ভবন নিরাপত্তা এবং অগ্নি প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনগুলো তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিশেষ করে অ্যাকর্ড ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এক হাজার ৬০০ কারখানার ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা পরিস্থিতির অগ্রগতি হয়েছে। তবে অ্যাকর্ড বা অন্য যে কারও নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কারখানাগুলোর বয়লার নিরাপত্তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়। অ্যাকর্ড অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি যাচাই করে। বয়লার বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও পর্যালোচনা করে তারা। এ ধরনের বিস্ফোরণ প্রতিরোধ বিষয়ে তাদের কোনো উদ্যোগ বা কর্মসূচি নেই। এর ফল হিসেবে টাম্পাকো ফয়েলসে বয়লার বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখছি আমরা। এটি একটি প্রধান ইস্যু। অ্যাকর্ড বা কারখানার নিরাপত্তা নিয়ে কর্মরত অন্য যেকোনো সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকারকে এই সমস্যা দূর করতে হবে। ’

এর আগে সাভারে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ও তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ দুটি ঘটনার পর ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যসুবিধা (জিএসপি) বাতিল করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলেও বাংলাদেশের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করছে তারা।


মন্তব্য