kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিলিতে মজুদ বেড়েছে

পেঁয়াজ আমদানির সুফল নেই রংপুর অঞ্চলে

স্বপন চৌধুরী, হিলি স্থলবন্দর থেকে ফিরে   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোসহ বাজার স্বাভাবিক রাখতে হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে বেশি করে পেঁয়াজ আমদানি করছেন। সে কারণে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমলেও রংপুর অঞ্চলে খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না।

গত এক সপ্তাহে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। ভারতের নাসিক, ভেলোর, ইন্দোর, রাজস্থান ও পাটনা থেকে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেশি করে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন বন্দরের ৩০ জন ব্যবসায়ী। এখন বন্দরে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম অনেক কমে গেছে। সময়মতো বাজারজাত করতে না পারায় ইতিমধ্যে পেঁয়াজে পচন ধরেছে। এ কারণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

বন্দরের বেসরকারি পরিচালক প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে ৬৮০টি পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক এসেছে। আমদানি হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন। গত তিন মাসের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগস্ট মাসে আমদানি করা হয়েছে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ। আর জুলাই মাসে ২৫ হাজার ৭০৫ টন।

বন্দরের আড়তদাররা জানান, এক সপ্তাহ আগেও মানভেদে ভারতীয় পেঁয়াজ ১৪ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

স্থানীয় আমদানিকারক এনামুল হক চৌধুরী ও মমিনুল ইসলাম মমিন বলেন, ভারত থেকে এক কেজি পেঁয়াজ আমদানি করতে খরচ হয় ১৩ থেকে ১৪ টাকা। পেঁয়াজে পচন ধরায় তা লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

হিলি বাজারের আড়তদার শাহাবুল ইসলাম জানান, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কমে বর্তমানে ১০ টাকায় নেমেছে।

ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানায়, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আসত, স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে এখন বেশির ভাগেরই আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। তাই সেসব ব্যবসায়ী ঝুঁকে পড়েছেন পেঁয়াজ আমদানিতে। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন জানান, দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্য স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে ভারতের বাড়তি মূল্যেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকদের গুদামে পেঁয়াজের মজুদ বেড়ে গেছে। পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কম দামেই বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।   আমদানি করা পেঁয়াজের পাইকারি দাম কমলেও রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোয় কয়েক দিন আগের বাড়তি দামেই বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।


মন্তব্য