kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


না.গঞ্জে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ‘নব্য জেএমবি’

এই আমিনুল শেরপুরের সেই আমিনুল!

শেরপুর প্রতিনিধি    

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



এই আমিনুল শেরপুরের সেই আমিনুল!

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ‘নব্য জেএমবি’ দম্পতিকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের একজন শেরপুরের সেই আমিনুল বলে দাবি করেছে পরিবার।

তাদের দাবি, গত ২৩ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নালিতাবাড়ীর নন্নী বাজার থেকে আমিনুলকে র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। নববধূ নাহিদ সুলতানাসহ আমিনুলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ছবি দেখে তারা জানতে পেরেছে।

এদিকে গতকাল শনিবার ঢাকার শেরে বাংলানগর থানায় র‍্যাবের দায়ের করা মামলায় পুলিশ রিমান্ডে থাকা আমিনুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাঁর শ্যালক মো. শহীদ। তিনি বলেছেন, ‘দুলাভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রথম দেখায় তাঁকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিল। বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি। ’

পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরো জানান, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফসিহুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে  তিনি বলেন, ‘নন্নীর নিখোঁজ আমিনুলই নারায়ণগঞ্জে র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আমিনুল। বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ’ তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো কিছু বলতে চাননি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নন্নী বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামকে তাঁর দোকান থেকে তুলে নেওয়া হয়। সাদা  পোশাকধারী সাত-আটজনের একটি দল কালো গ্লাসের সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। মাইক্রোবাসের নম্বর ঢাকা মেট্রো ৫২-৭২৩৩। গাড়িতে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম কিংবা স্টিকারও ছিল না বলে জানায় স্থানী লোকজন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান, থানা পুলিশ, র‍্যাব জামালপুর-১৪সহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অবশেষে গত ২৯ জুন রাতে আমিনুলের বড় ভাই মো. আবু হারেজ এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমিনুল ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি  জেএমবি ও আইএসের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতেন। অনেকের সঙ্গে জিহাদি আলাপ-আলোচনা করতেন তিনি। ইন্টারনেটে এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়েও অনেককেই অবহিত করতেন।

স্থানীয় লোকজন আরো জানায়, এলাকার জিয়াউল ইসলাম মাস্টার নামের এক স্কুল শিক্ষক আমিনুলসহ আরো কয়েকজন তরুণকে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তারা তথ্য আদান-প্রদান করত। জিয়াউল মাস্টার মাঝেমধ্যেই ঢাকায় যেতেন। তাঁর চলাফেরা ও সাম্প্রতিককালে অর্থ খরচের বিষয় নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে সন্দেহ ছিল। কিন্তু কেউ কিছু বলার সাহস করত না। আমিনুলের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর জিয়াউল মাস্টারকেও এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

আমিনুলের বাড়িতে গেলে তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ‘ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে আমিনুল সবার ছোট। আমার স্বামী জঙ্গি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। সে আর কোনো বিয়েও করেনি। সাড়ে ৯ বছর ধরে একসঙ্গে ঘর করছি। কোনো দিন এ রকম কিছু দেখিনি। এটা আমার স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ’

বৃৎদ্ধ মা আম্বিয়া খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার পুলারে ফিরাই দেও। অহন তো পুলার খবর পাইয়াই মুনে শান্তি নাই। আমার পুলায় কোনো খারাপ কাম করবার পায়, আমি বিশ্বাস করি না। ’


মন্তব্য