kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যানজট নিরসনে ট্রাফিকের উদ্যোগ

আব্দুল্লাহপুরে ওয়াচ টাওয়ার কার্যকর ভূমিকা রাখছে

আপেল মাহমুদ   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান আব্দুল্লাহপুরকে বলা হয় ঢাকার প্রবেশপথ। উত্তরবঙ্গ, বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাড়াও আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ এ পথেই ঢাকায় আসা-যাওয়া করে।

ফলে এলাকাটিতে সব সময়ই যানবাহন আর মানুষের ভিড় লেগে থাকে। ঈদযাত্রার সময় তা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কয়েক দিন সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা গেল, রাস্তাঘাট স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশের আপ্রাণ চেষ্টা-তদবির চলছে।

যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় এই মোড়ে যানবাহন ধীরগতিতেই চলে। আর এই গতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশকে খুবই তৎপর থাকতে হয়। গতকাল শনিবারও বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশকে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেল। আর তখনই চোখে পড়ল ব্যতিক্রমধর্মী একটি উদ্যোগ। দেখা গেল, বিশাল টাওয়ারে বসে যানবাহনের চাপ ও গতি পর্যবেক্ষণ করছে তারা। বাঁশ-কাঠ আর রশি দিয়ে সুউচ্চ টাওয়ার বানিয়ে দূর থেকে যানজট পর্যবেক্ষণ করে রাস্তার সিগন্যাল দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতি বেশ কার্যকর বলে ট্রাফিকের উত্তর বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। ফলে দুই বছর ধরে তারা ওয়াচ টাওয়ার করে ঈদের বাড়তি যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

ঈদ উপলক্ষে বিগত দিনে যানজট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে নানা উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। ‘দড়ি থেরাপি’ থেকে শুরু করে ‘বাঁশ থেরাপি’ গ্রহণ করা হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে দুই বছর ধরে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর পয়েন্টে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করে কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে। টাওয়ারের ওপর বসে অনেক দূর পর্যন্ত যানবাহন দেখা যায় বলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হচ্ছে।

দায়িত্বরত টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) মাহফুজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদ মৌসুমে আব্দুল্লাহপুরে যানবাহন ছাড়াও মানুষের প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। সেটা থেকে রেহাই পেতে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে ট্রাফিক সিস্টেম চালানোটা বেশ কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে সেখানে দীর্ঘক্ষণ যানজট লাগছে না। মাঝে মাঝে যানবাহনের গতি ধীর হলেও পরে সেটা আর থাকছে না। ’

মাহফুজুর রহমান জানান, ওয়াচ টাওয়ারের আরেকটি সুবিধা হলো, অনেক সময় যানজটে কোনো গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মুহূর্তেই যানজট লেগে যায়। ফলে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে। ওয়াচ টাওয়ার ৬০ ফুট উঁচু হওয়ায় টাওয়ারে বসেই সব পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে। যদি কখনো কোনো গাড়ি রাস্তায় নষ্ট হয় তাত্ক্ষণিকভাবে রেকারের মাধ্যমে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার আব্দুল্লাহপুর মোড়ে গাড়ির চাপ একটু বেশি। কারণ কামারপাড়া ও টঙ্গী সড়কে পশুর হাট বসায় পশুবাহী ট্রাককেও আব্দুল্লাহপুর পয়েন্ট ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। এমনকি রাস্তার গাড়ির গতি ঠিক রাখতে তাদের সারা রাত রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ থেকে ওই স্থানে গরুর হাট বসানোর অসুবিধার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আব্দুল্লাহপুরের প্রবেশপথ সচল রাখতে সেখানে ছয়জন সার্জেন্ট, তিনজন টিআই, একজন এসি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের পাশাপাশি ট্রাফিক, থানা, আনসার ও কমিউনিটি পুলিশের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। ঢাকা ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ডিসি, এডিসি নিয়মিতভাবে সেখানে যাচ্ছেন এবং সেখানে কর্মরতদের কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন।

একাধিক ট্রাফিক সার্জেন্ট জানান, গতকাল থেকে এ এলাকার গার্মেন্ট ছুটি হওয়ায় হঠাৎ করে আব্দুল্লাহপুরে যানবাহন ও মানুষের চাপ বেড়ে যায়। এ জন্য আব্দুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত রাস্তা ঠিক রাখতে তাঁদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। কারণ, এ সড়ক যানজটে বন্ধ হয়ে গেলে ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। অনেক সময় বাসযাত্রীদের রাস্তায়ই ঈদের নামাজ পড়তে হয়। পুরো উত্তরবঙ্গের অসংখ্য গাড়ি টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে বাড়ি যেতে এ সড়কটি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।


মন্তব্য