kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জেলা পরিষদের নির্দলীয় নির্বাচন, বিধিমালা হচ্ছে

কাজী হাফিজ   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জেলা পরিষদের নির্দলীয় নির্বাচন, বিধিমালা হচ্ছে

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জেলা পরিষদেই কেবল দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হচ্ছে না। গত ৫ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশের মাধ্যমে জেলা পরিষদ আইনের যে সংশোধনী আনা হয়েছে তাতে এ নির্বাচন নির্দলীয়ই রাখা হয়েছে।

এ অবস্থায় নির্দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। সংশোধিত আইনে এ নির্বাচনের বিধিমালা ও নির্বাচনসংক্রান্ত অন্য বিধিবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে জানান, ঈদের ছুটির পর কমিশনের বৈঠকে জেলা পরিষদ নির্বাচনের খসড়া বিধিমালা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। নির্বাচন কবে হবে তা নির্ধারণ করবে সরকার। কারণ সংশ্লিষ্ট আইনের ১৯ নম্বর ধারায় বলা আছে, পরিষদ প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করবে সেই তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জেলা পরিষদ আইনের ৪ নম্বর ধারা অনুসারে, প্রতিটি জেলা পরিষদে একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনে পাঁচজন নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। এ নির্বাচনে সংসদ সদস্য বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এ আইনের ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী গঠিত নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে তাঁরা ভোট দেবেন।

এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন সংগঠনের নেতারা দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ, শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও কার্যকর জেলা পরিষদ গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  

লিখিত বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আইন সংশোধন করে ২০১৬ সালের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আইনে ত্রুটি রয়েছে। প্রথম ত্রুটিটি হলো, এ পদ্ধতিতে জনসাধারণ সরাসরি ভোট দিতে পারবে না। ভোট দেবেন নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যগণ। প্রতিটি জেলায় ১৫টি ওয়ার্ড থাকবে। এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ব্যতিক্রম। এখানে সংবিধানের মূল চেতনা মানা হচ্ছে না। এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গেও যায় না, সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। বর্তমান আইনটি থেকে ইলেক্টোরাল কলেজ (নির্বাচকমণ্ডলী) পদ্ধতি বাদ দিতে হবে। এলাকা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা পরিষদকে ওয়ার্ডে বিভক্ত করতে হবে। জনগণের সরাসরি নির্বাচনের অধিকার দিতে হবে। সংবিধানের ৫২ (২) এবং ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জেলা পরিষদকে কাজ দিতে হবে এবং সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করার বিধান বাতিল করতে হবে। ’

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশে সব সরকারই অতীতে সংবিধান লঙ্ঘন করে এসেছে। বর্তমান সরকার যে জেলা পরিষদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে তাতে আমরা আনন্দিত এবং সরকারকে স্বাগত জানাই। কিন্তু সরকার ২০০০ সালে পাস করা জেলা পরিষদ আইনকেই সংশোধন করে পুনঃপ্রচলন করছে। আইনের পুনঃপ্রচলন দোষের কিছু নয়, সেই আইন যদি যুগোপযোগী হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আগের জেলা পরিষদ আইনটি ছিল ধারণাগতভাবে পশ্চাৎপদ। এটি ছিল অনেকটা আইয়ুব খানের ‘মৌলিক গণতন্ত্রে’র আদলে গড়া। বর্তমান আইনও তাই। ”

সুজনের নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত সব ধাপই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে, সেটাই আমাদের সংবিধানে বর্ণিত আছে। কিন্তু জেলা পরিষদ আইনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কতটা প্রতিফলিত হবে সে ব্যাপারে আমাদের সংশয় রয়েছে। ’

২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন প্রণয়নের ১৬ বছর পর এ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলা পরিষদ নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে বলে  গত মাসে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। এর আগে ইসি থেকে বলা হয়েছিল, এ নির্বাচন হতে হলে আইন সংশোধন করে অন্যান্য স্থানীয় সরকার আইনের মতো এর বিধিমালা তৈরির ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। এ ছাড়া ১৬ বছর আগে ওই আইন প্রণয়নের পর জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর পদ-পদবিতে কিছু পরিবর্তন ঘটে। আগে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় কমিশনার পদ ছিল। এখন তা পাল্টে কাউন্সিলর হয়েছে। পৌরসভার চেয়ারম্যান পদটি মেয়রে পরিবর্তিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য পদ সৃষ্টি হয়েছে। আইন অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়র, চেয়ারম্যান ও অন্য সদস্যদের নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করে তাঁদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন করতে হবে। ফলে জেলা পরিষদ আইনে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু পদ-পদবিতে পরিবর্তনের জন্য সংশোধনী আনতে হবে। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ সংশোধনী আনা হয়েছে।


মন্তব্য