kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি

রাজশাহীতে আটক আটজনকে ছাড়িয়ে নিলেন নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজশাহীতে ঈদের পরে ফিরতি ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির সময় হাতেনাতে বুকিং সহকারীসহ আটজনকে আটক করেছে র‍্যাব। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার সময় তাদের আটক করা হয়।

কিন্তু বিক্ষোভ ও চাপের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

টিকিট কালোবাজারির সময় আটক হওয়াদের মধ্যে পাঁচজনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলো রেলওয়ে পুলিশের রাজশাহী থানার কনস্টেবল মানিক, রাজশাহী স্টেশনের বুকিং সহকারী বাকি হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আবদুল হানান ও মজিবর রহমান। আটককৃত অন্য তিনজন রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মী বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।  

আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করে। তারা স্টেশনের প্রধান ফটক বন্ধ এবং টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মুখে আটককৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল ও ফয়সাল হক।

একাধিক সূত্র জানায়, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর ট্রেনের ফিরতি ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বরের বেশ কিছু টিকিট রেখে দেয় বুকিং সহকারীরা। তাদের সঙ্গে রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর যোগসাজশ রয়েছে। ওই টিকিট গতকাল বিকেল থেকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে কয়েকজনকে র‍্যাবের সহায়তায় ধরে ফেলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ঘটনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকারসহ বেশ কয়েকজন নেতা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে তাঁদের হস্তক্ষেপে এবং রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের চাপের মুখে আটককৃত আটজনকেই ছেড়ে দিতে বাধ্য হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই বিচারক। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই চলে যান দুই বিচারক ও র‍্যাব সদস্যরা।

পরে র‍্যাব রাজশাহী ৫-এর মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার সন্তোষ সাহা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।


মন্তব্য