kalerkantho


বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ‘গরমিল’ নিষ্পত্তির উদ্যোগ

৫ বছরে অডিট আপত্তি ১২ হাজার কোটি টাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঁচ বছরের হিসাবে ধরা পড়া ১২ হাজার কোটি টাকার গরমিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এ-সংক্রান্ত ‘অডিট আপত্তি’ নিষ্পত্তির কাজ চলছে বলে এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তির তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, পাঁচ বছরে মোট ১১ হাজার ৯১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার এক হাজার ২৯৪টি অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন রয়েছে। কমিটির সদস্যরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে এ ধরনের গরমিলে উদ্বেগ প্রকাশ করে অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট আপত্তির মধ্যে ৭৩৪টি আপত্তি ব্যাংকের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত। বর্তমানে হিসাবগুলোকে ১৬টি শ্রেণিভুক্ত করে কার্যপত্র চূড়ান্ত হয়েছে। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ২১ আগস্ট দ্বিপক্ষীয় সভা আহ্বানের জন্য বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরকে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রউফ কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব অডিট আপত্তিগুলো নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে বলে কমিটিকে জানানো হয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব নিয়াজ রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার হিসাবে গরমিল ধরা পড়ে। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়, ভাউচার না থাকা, বেতন-ভাতা, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক বিধি অনুসরণ না করায় অডিটে ওই সব ব্যয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি দেওয়া হয়। অডিট আপত্তিগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই বেতন-ভাতা সংক্রান্ত। এর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা সুবিধা প্রদান, কর্মকর্তাদের ডরমিটরি ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, কর্মচারীদের পোশাক ও ধোলাই ভাতা প্রদান, ভ্রমণ ভাতাসহ বিভিন্ন বিষয়।


মন্তব্য