kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশ হয়ে ভারতের জ্বালানি যাচ্ছে ত্রিপুরায়

সিলেট অফিস   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশ হয়ে ভারতের জ্বালানি যাচ্ছে ত্রিপুরায়

সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে গতকাল শনিবার ভারতের জ্বালানি তেল ও গ্যাসবাহী লরির প্রথম চালান যাচ্ছে সে দেশের ত্রিপুরা রাজ্যে। বিকেল সাড়ে ৩টায় ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে ৯টি তেলবাহী ও একটি গ্যাসবাহী লরি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

সিলেটের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতের মেঘালয় থেকে ত্রিপুরা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসব তেল ও তরলীকৃত গ্যাস (এলপিজি)।

তামাবিল স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক চুক্তির আওতায় আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল ভারতীয় এসব তেলবাহী ট্যাংকলরি তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সব ধরনের তল্লাশির (চেকিং) এই গাড়িগুলো সিলেটের সড়কপথ দিয়ে মৌলভীবাজারের চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেয়। এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাসহরে যাবে তেল ও গ্যাস।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় ট্যাংকলরিগুলো উত্তর আসামের বঙ্গাইগাঁও থেকে যাত্রা করে। লরিগুলো মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে সিলেটের তামাবিল-মৌলভীবাজারের চাতলাপুর হয়ে উত্তর ত্রিপুরার কৈলাসহরে ঢুকবে। সব মিলিয়ে প্রায় চার ঘণ্টায় ১৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল সরবরাহের পর খালি যানবাহনগুলো বাংলাদেশের চাতলাপুর চেকপোস্ট হয়ে একই পথে ভারতে ফিরে যাবে।

গতকাল রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত লরিগুলো চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন অতিক্রম করেনি। রাত ১০টার দিকে অতিক্রম করতে পারে বলে মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান।

তামাবিল শুল্ক স্টেশনের ইমিগ্রেশন অফিসের ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রুনু মিয়া জানান, তেলবাহী লরির প্রতিটিতে ৯ টন তেল এবং গ্যাসবাহী লরিতে সাত টন গ্যাস রয়েছে। তিনি বলেন, বন্যায় ভারতের অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সাময়িকভাবে বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা যায়, বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করে ভারতের এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে জ্বালানি পরিবহনের জন্য গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সঙ্গে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।

এই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে ভারতীয় জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকলরি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রিপুরায় যাতায়াত করবে। তবে এ ক্ষেত্রে ভারতকে মাসুল দিতে হবে।

গতকাল বিকেলে তামাবিলে ভারতীয় জ্বালানি পরিবহনকারী গাড়ি প্রবেশকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম, তামাবিল শুল্কবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুর রহমান, ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কর্মকর্তা মো. রুনু মিয়া, ভারতীয়দের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মেঘালয়ের সড়ক বিভাগের আঞ্চলিক উপপরিচালক অসিম পাল চৌধুরীসহ অন্য কর্মকর্তারা।

সিলেটের সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকলরি পরিবহনে বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করতে কিলোমিটার প্রতি টনে ১ দশমিক ০২ পয়সা করে ভারতীয়রা শুল্ক দেবে।


মন্তব্য