kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজধানীতে খেলতে গিয়ে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে রাজধানীর সবুজবাগে খালে পড়ে শামীম হোসেন (১২) নামের একটি শিশু এবং খিলগাঁওয়ে খোলা সেপটিক ট্যাংকে পড়ে সায়িখ সাদাত ইফতি (৬) নামের আরেকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ইফতি ঢাকার দোহার থেকে খিলগাঁওয়ে নানার বাসায় বেড়াতে এসেছিল।

তারা বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিল। গতকাল শুক্রবার তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সবুজবাগের ওয়াসা রোডের খাল থেকে গতকাল সকালে শামীমের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ইফতির লাশ পাওয়া যায় খিলগাঁওয়ের একটি বাড়ির খোলা সেপটিক ট্যাংকে। ইফতির মৃত্যুর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

নিহত শিশু শামীমের বাবা সিএনজি অটোরিকশার চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, শামীম কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় সে পা পিছলে ওয়াসা রোডের খালে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে উদ্ধারে সন্ধ্যা পর্যন্ত চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। গতকাল সকালে ডুবুরি দল ফের খোঁজ শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শামীমের লাশ পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী শিশু সখিনা জানায়, শামীম বাসার সামনে ওয়াসার খালের পাশে একটি খালি ট্রাকে উঠে খেলা করছিল। এ সময় কয়েকটি ছেলেও সেখানে খেলতে আসে। একপর্যায়ে তারা ময়লার স্তূপের ওপর দিয়ে ওয়াসার খাল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় একজন খালের পানিতে পড়ে গেলে অন্য ছেলেগুলো দৌড়ে চলে যায়।

সবুজবাগ থানার এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, শামীম পরিবারের সঙ্গে বাসাবো এলাকার ওহাব কলোনিতে থাকত। তাদের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী থানার বাগাদি গ্রামে। শামীম দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়।

নিহত সাদাত ইফতিরর খালা হনুফা বেগম জানান, ইফতির বাবা ইব্রাহিম খলিল ও মা ফাহমিদা আক্তার। ইফতির চার বছর বয়সী একটি ছোট বোন রয়েছে। ইফতির বাবা ইব্রাহিম ঢাকার দোহারে পিডাব্লিউডিতে চাকরি করেন। সেখানে পিডাব্লিউডির কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে থাকেন। সেখানের একটি স্কুলে নার্সারিতে পড়ত ইফতি। গত মঙ্গলবার খিলগাঁও থানার শেখের জায়গায় পরিবারের সঙ্গে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে ইফতি। বৃহস্পতিবার সকালে ইফতি নিখোঁজ হয়। তার সন্ধান পেতে শেখের জায়গার খালসহ সম্ভাব্য অনেক জায়গায় খোঁজা হয়। পরে সবুজবাগ থানায় একটি জিডি করে তার স্বজনরা। গতকাল সকাল ৮টার দিকে আলহাজ আব্দুর রশিদ মাতবর রোডের একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে তার লাশ পাওয়া যায়। ওই সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আজহারুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়ির সামনে কয়েকজন ছেলে খেলা করছিল। বাড়িটির চারদিকে দেয়াল ও মেইন গেট সব সময় তালা লাগানো থাকত। কয়েকজন ছেলে গেট টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ধমক দিলে তারা চলে যায়। ওই বাড়িতে রাস্তাসংলগ্ন একটি কক্ষ ও একটি মুদি দোকান রয়েছে। এর পেছনে ছিল সেপটিক ট্যাংক। কেউ ধারণা করেনি, ইফতি ওই ট্যাংকে পড়ে গেছে। গতকাল সকালে একটি শিশু ওই ট্যাংকে ইফতির লাশ দেখতে পায়। মুদি দোকানটি চালাতেন রেজাউল।

সবুজবাগ থানার এসআই বাবর সরকার জানান, শিশু ইফতির মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুদি দোকানদার রেজাউলকে আটক করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস ফকির বলেন, শিশু দুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুটি ঘটনাই দুর্ঘটনাবশত। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


মন্তব্য