kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবার বিশ্বভ্রমণে আব্দুস সাত্তার

ফখরে আলম, যশোর   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আবার বিশ্বভ্রমণে আব্দুস সাত্তার

ছয় বছর পর গাড়ি ফিরে পেয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হয়েছেন আব্দুস সাত্তার। ছবি : ফিরোজ গাজী

স্বাধীনতার জন্য একাত্তরে রাইফেল তুলে নিয়েছিলেন হাতে। সেই মুক্তিযোদ্ধাই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বিশ্ব দরবারে উঁচিয়ে ধরতে নিয়েছিলেন অনন্য উদ্যোগ।

রেকর্ড গড়তে বেরিয়েছিলেন বিশ্বপরিভ্রমণে। কিন্তু সেই উদ্যোগের শেষটা তাঁকে স্বস্তি দেয়নি। তাঁর ভ্রমণসঙ্গী গাড়িটি নিয়ে স্বাধীন দেশের আমলাতন্ত্র তাঁকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিল। তবে সেই ভোগান্তি এই মুক্তিযোদ্ধাকে নিজ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তিনি আবার বেরিয়ে পড়েছেন। লক্ষ্য—তিন বছরে বিশ্ব ভ্রমণ করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করা।

আলোচ্য ব্যক্তিটি যশোরের চৌগাছা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কানাডাপ্রবাসী আব্দুস সাত্তার। ৬৩ বছর বয়সে এসে অদম্য সাহস নিয়ে গত মঙ্গলবার তিনি দেশ ছেড়েছেন। যশোর থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে তিনি এখন ভারতে। ‘পরিবেশ রক্ষা’, ‘ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা’, ‘নিজেকে জানো বিশ্বকে জানো’— এমন সব বিষয়ে প্রচারণা লাখ লাখ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁর। একই সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে কম সময়ে বিশ্ব ভ্রমণ করে বাঙালির সাহস ও সামর্থ্যের দৌড় কতটা, তা দেখাতে চান বিশ্ববাসীকে।

একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। আবদুস সাত্তার ২০০৯ সালের ২ আগস্ট নিজের মিতসুবিশি আউটল্যান্ড গাড়ি নিয়ে বের হন বিশ্বভ্রমণে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ডসহ ২৩টি দেশ ঘুরে ইরান ও পাকিস্তান হয়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন। পাকিস্তান থেকে তিনি দেশে পৌঁছান বিমানযোগে। আর দেশে আনার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়িটি তুলে দেন জাহাজে। গাড়িটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর ২০১০ সালের ৬ জুন সেটি আটকে দেয় জাতীয় রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তাঁর শত যুক্তিও গুরুত্ব পায়নি আমলাতন্ত্রের কাছে। এভাবে ‘লাল ফিতার’ সঙ্গে যুদ্ধে কেটে যায় দীর্ঘ ছয়টি বছর। শেষ পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সহায়তায় সম্প্রতি গাড়িটি ফিরে পান তিনি। আর সেই গাড়িতে চেপেই আবার বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেন আব্দুস সাত্তার। যশোর থেকে বেনাপোল সীমান্ত হয়ে ভারতে যাওয়ার সময় এই অভিযাত্রীকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান যশোর ইনফোর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান।

আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যক্তিগত গাড়িটি বন্দর থেকে ছাড় করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও তিনি ব্যর্থ হন। বিষয়টি নিয়ে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দৈনিক কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদনও ছাপা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাতে সুযোগ পান। এরপর মন্ত্রীর সহায়তায় তিনি গাড়িটি ফেরত পান।

আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমার বিশ্বরেকর্ড গড়ার ইচ্ছা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের একটি পরিবার গাড়িযোগে ৩৩ বছরে ১৮০টি দেশ ভ্রমণ করে রেকর্ড গড়েছে। আমি আগামী তিন বছরে বিশ্ব ভ্রমণ করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করব। স্বাধীন দেশের আমলাতন্ত্র আমাকে ত্যক্ত-বিরক্ত করেছে। অনেকে সাহায্যও করেছে। আমি বেঁচে থাকলে তাদের ঋণ শোধ করব। ’


মন্তব্য