kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেশি গরুতে ঠাসা রাজশাহীর হাট

দাম একটু বেশি, তবে ক্রেতারা খুশি

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিটি বাইপাস হাটকে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় গরুর হাট ধরা হয়। রাজশাহী শহর থেকে উত্তর দিকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে এই হাট; আয়তন প্রায় পাঁচ বর্গকিলোমিটার।

বুধবার পুরো হাটেই ছিল গরু। মহিষও ছিল। পা ফেলার জায়গাও পাওয়া যাচ্ছিল না। হাট জমে উঠেছে এক সপ্তাহ আগেই।

অন্য সময় সপ্তাহে দুই দিন এই হাট বসে। এখন কোরবানি উপলক্ষে প্রতিদিন বসছে। গরু আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সেখানে ভারত থেকেও আসছে গরু; তবে গতবারের চেয়ে অনেক কম। দেশি জাতের গরুতেই হাট ভরপুর।

শুধু এই হাট নয়, জেলার গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী, পুঠিয়ার বানেশ্বর, দুর্গাপুর সদর, পবার কাটাখালী, বাগমারার তাহেরপুর, নওগাঁর চৌবাড়িয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের খাশিরহাটে এবার প্রচুর দেশি গরু আসছে। ফলে ভারতের গরুর চাহিদা তেমন নেই। দেশি গরুর দাম একটু বেশি, তাতেও সমস্যা হচ্ছে না। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই খুশি।

ক্রেতা-বিক্রেতা, খামারিদের বক্তব্য, ভারতের গরু আমদানি করা না হলেও কোরাবানিতে সমস্যা হবে না। দেশেই প্রচুর গরু আছে; বাজার ধরে রাখতে হবে। না হলে খামারিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বলে তাদের আশঙ্কা।

বুধবার সিটি বাইপাস হাটে গিয়ে অনেকের সঙ্গে কথা হয়। অন্তত ২৫ হাজার গরু ও মহিষ আনা হয়েছিল। মাত্র এক-দেড় হাজার ছিল ভারতের গরু-মহিষ; বাকি সব দেশি। রাজশাহী অঞ্চলের খামারিরা বাড়িতেই গরু পালন করছে। কোরবানি উপলক্ষে দাম একটু বেশি হবে—এ আশায় গরু হাটে আনছে তারা। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।

বাইপাস হাটে গরু কিনতে এসেছিলেন নাটোরের কানাইখালীর রেফাত আলী। তিনি বলেন, ‘দুটি গরু কিনতে এসেছি। বাজারে দেশি গরুই বেশি চোখে পড়ছে। দাম গতবারের চেয়ে একটু বেশি। তার পরও দেশি জাতের গরুই কিনেছি। ’ তিনি বলেন, ‘দেশি গরুর মাংসের আলাদা স্বাদ আছে। ভারতীয় গরুতে তা নেই। দেশে পালিত গরুই বেশি কিনছে মানুষ। ’

ভারত থেকে গরু আমদানি করেন রাজশাহী শহরের ব্যবসায়ী আফসার আলী। তিনি বলেন, ‘এবার নদীতে প্রচুর পানি। তাই গরু আনতে ভয় লাগছে। কিছু গরু সাঁতরে আনা হচ্ছে। অনেক ঝুঁকি থাকছে। গরুগুলো তীরে ওঠানোর পরও বেশ ধকল সামলাতে হচ্ছে। ফলে ভারতীয় গরুর আমদানি এবার অনেক কম। ’

দেশি জাতের গরুর খামারি দুর্গাপুরের উজান খলসি গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ‘গতবার মাঝারি গরুর দাম ছিল ৭০-৭৫ হাজার টাকা, এবার বেড়ে হয়েছে ৮০-৮৫ হাজার টাকা। ছোট গরুর দাম ছিল ৩০-৪০ হাজার টাকা, এবার হয়েছে ৩৫-৪৫ হাজার টাকা। বড় গরুর দাম ছিল ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা, এবার সেগুলো এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ’

গরু লালন-পালনের খরচ বেড়েছে। হাটে আনার আগে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে হাজার টাকা। এসব কারণে গরুর দাম বেড়েছে। তার পরও দেশি গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলেন, ভালো দাম না পেলে কোরবানি উপলক্ষে গরু পালনে আগ্রহী হবে না খামারিরা। ভারত থেকে বেশি গরু আমদানি না করাই ভালো। কারণ ঈদের আগে গরু আমদানি বেড়ে গেলে দেশি গরুর দাম পড়ে যেতে পারে।

বাইপাস হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, ‘দেশি জাতের গরুই বেশি আসছে। ভারতীয় গরু খুবই কম। হাটে ২০ হাজার গরু এলে এক হাজার থাকছে ভারতীয়। দাম দেশি গরুর মতোই। তাই ভারতীয় গরুর চাহিদা তেমন নেই। ফলে আমদানি কমছে। ’

বুধবার দুর্গাপুর হাটেও প্রচুর গরু আনা হয়। রাজশাহী শহর থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এই হাট। খোঁজ করে জানা গেল, সেদিন ওই হাটে প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল দেশি গরু। সেখানে গরু কিনতে গিয়েছিলেন পুঠিয়ার ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান। ফোনে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই হাটে দেশি গরুর আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি চাহিদাও বেড়েছে। দামও পাচ্ছে বিক্রেতারা। দেশি গরু কিনে ক্রেতারাও খুশি। ’

 


মন্তব্য