kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অর্থব্যবস্থাপনায় পেশাদার ক্রীড়াবিদদের পরামর্শ

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



অর্থব্যবস্থাপনায় পেশাদার ক্রীড়াবিদদের পরামর্শ

১. খেলা চালানোর পরিকল্পনা করুন : লিব্লাঙ্কের মতে, খেলা কিভাবে চালাবেন তার একটা দারুণ পরিকল্পনা নেবেন। নয়তো জয়ের সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায় থাকবে।

স্পোর্টস ফিন্যানশিয়াল অ্যাডভাইজর অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জোনাথন মিলারের মতে, প্রত্যেক ক্রীড়াবিদ ক্যারিয়ার শেষে কিভাবে জীবন চালাবেন সে বিষয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা দরকার। সবার ক্ষেত্রেই একই বিষয় প্রযোজ্য। প্রত্যেক মানুষের উচিত উপার্জনের ১০ শতাংশ পরবর্তী জীবনের জন্য সঞ্চয় করে রাখা। এটাই উত্কৃষ্ট পরিকল্পনা।

২. অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলাতে...: অনেক ক্রীড়াবিদ একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ থাকেন। এরপর কী হবে তা তিনি জানেন না। এ পরিস্থিতি অসংখ্য পেশাজীবীর জীবনে ঘটতে থাকে। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই প্রস্তুতি থাকা দরকার। এর জন্য আলাদাভাবে সঞ্চয়ের বিকল্প নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। হঠাৎ করে আসা বড় ধরনের খরচ বা বেকারত্বের ঝক্কি সামাল দিতে পৃথক ফান্ড রাখুন।

৩. ছোট কাজে ঘাম ঝরাবেন না : প্রথমেই বের করুন আপনার উপার্জন, খরচ ও সঞ্চয়ের হিসাব। নির্দিষ্ট খরচ, যেমন—বিল প্রদানের বিষয়গুলো নিয়ে দৌড়াবেন না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বিল যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যায় সে ব্যবস্থা করে রাখুন। সঞ্চয়ের ভাগটাও যেন তার জায়গায় এমনিতেই চলে যায়, যা থাকবে তাই নিয়ে চলবে খরচ।

৪. মাঝেমধ্যে শখ পূরণ : একজন ক্রীড়াবিদ বেশ কিছু পয়সার বিনিময়ে কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে একটি গাড়ি কিনতেই পারেন। তবে এর জন্য আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। কিছু অর্থ শখ পূরণের জন্য খরচ করা ক্ষতিকর নয়, জানান বিশেষজ্ঞরা। তবে যাই করেন না কেন, তা যেন আপনার শখ ও প্রয়োজন উভয়ই মেটাতে পারে। আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, প্রতিবার নতুন চুক্তি করে বা বাড়তি উপার্জন করেই যে বড় ধরনের শখ পূরণ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই।

৫. নতুন উপার্জনের উৎস সৃষ্টিতে দক্ষতা বৃদ্ধি : উচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত খেলোয়াড়ও অর্থ বিষয়ে নানা ঝামেলায় পড়েন। এক ক্লাবের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থে চুক্তিবদ্ধ হন বাস্কেট বল খেলোয়াড় এ জে ফ্রান্সিস। তবে তখনই ক্লাবকে বলে রাখেন যে অবসর সময়ে তিনি উবারের ট্যাক্সি চালক হিসেবে কাজ করবেন। বাড়তি কিছু আয় মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক পেশাজীবী অন্যান্য দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে উপরি আয়ের ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। এমন কিছু শিখুন যা আপনার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

৬. বাজে পরামর্শকের আনাগোনা এড়িয়ে চলা : যখন অর্থ বানাতে শুরু করেছেন, তখন আশপাশে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী খুঁজে পাবেন। তাঁরা নানাভাবে আপনাকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু নিজের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্যের মাঝে বাজে পরামর্শকদের এড়িয়ে চলতে হবে। তবে একজন ভালো উপদেষ্টা থাকা জরুরি। এতে অনেক ভুল এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়ে ওঠে।

৭. মনোযোগ হারালে চলবে না : খেলার ময়দানে যেমন এক মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারালে সব যাবে, তেমনি অর্থব্যবস্থাপনাতেও সাবধান থাকতে হবে। আয়, ব্যয় এবং সঞ্চয়ের সুষ্ঠু পরিকল্পনা থেকে কোনো অবস্থাতেই বেরিয়ে আসা চলবে না। এতে খুব সহজেই সব এলোমেলো হয়ে যাবে। বিশেষ করে গতানুগতিক পরিকল্পনার বাইরে বাড়তি খরচের বিষয়ে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। যে খাতেই খরচ করেন না কেন নিজেকে প্রশ্ন করুন, আমার কাছে এর গুরুত্ব কতটুকু? পরিকল্পনায় সেঁটে থাকুন, একদিন ঠিকই গন্তব্যে  পৌঁছবেন।   

বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার


মন্তব্য