kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সেবা

পুরো এখতিয়ার এনটিটিএন অপারেটরদের

কাজী হাফিজ   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বিটিআরসি ২০১৩ ও ২০১৪ সালের দুটি নির্দেশনা স্থগিত করে দেশে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সেবার এখতিয়ার পুরোপুরি ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটরদের কাছে ন্যস্ত করেছে। সেকেন্ডারি লিংক হিসেবে মোবাইল ফোন অপারেটরদের এ সেবার সুযোগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

আগের ওই নির্দেশনার ভিত্তিতে এনটিটিএন অপারেটরদের পাশাপাশি মোবাইল ফোন অপারেটরদেরও সেকেন্ডারি লিংক হিসেবে ট্রান্সমিশন সেবা দেওয়ার সুযোগ ছিল। এনটিটিএন অপারেটররা পুরোপুরি  সক্ষম হয়ে ওঠেনি—এই যুক্তিতে তখন মোবাইল অপারেটরদের এ সুযোগ দেওয়া হয়। এখন এটি স্থগিত হওয়ার কারণে মোবাইল অপারেটররা শুধু এক্সেস নেটওয়ার্ক সেবা দিতে পারবে। অর্থাৎ এনটিটিএন অপারেটরদের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই তাদের গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে হবে। এ ব্যবস্থার ফলে এনটিটিএন লাইসেন্সিং গাইড লাইনটিও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর আগের নির্দেশনা স্থগিত করে মোবাইল অপারেটরদের নতুন একটি নির্দেশনা দিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থাটির ইঞ্জিনিয়ারিং ও অপারেশন বিভাগের সিনিয়র পরিচালক প্রকৌশলী শারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনা ৬ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। কিছুদিন আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত ডমেস্টিক নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) ২১তম সভায় এক্সেস নেটওয়ার্ক থেকে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ককে আলাদা করার জন্য বিটিআরসিকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনসিসির পরামর্শ পাওয়ার পর গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ১৯৯তম সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বলা হয়, এনটিটিএন লাইসেন্স প্রথমে ২০০৯ সালে দুটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। কিন্তু ১৯৯৭ সাল থেকেই  মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। আগে ট্রান্সমিশনের জন্য পৃথক কোনো লাইসেন্স না থাকায় মোবাইল অপারেটররা নিজেদের মধ্যে ট্রান্সমিশন সেবা শেয়ার করেছে। ২০০৯ সালে এনটিটিএন অপারেটরদের ওপর আরোপিত রোল-আউট টার্গেট অনুসারে প্রথম বছর ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর ১০ শতাংশ, তৃতীয় বছরে ১৫ শতাংশ—এভাবে ১০ বছরে শতভাগ উপজেলা কভারেজের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায়  প্রাথমিক পর্যায়ে টেলিকম অপারেটরদের চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে ট্রান্সমিশন সেবা দেওয়া এনটিটিএন অপারেটরদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং প্রয়োজন মেটাতে এনটিটিএন অপারেটরদের পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদেরও ট্রান্সমিশন সেবা প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়।


মন্তব্য