kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজধানীতে পশুর হাট

ক্রেতা বেশি বিক্রি কম

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে সকাল থেকেই ক্রেতারা হাটে ভিড় জমাতে থাকেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতার উপস্থিতি। পছন্দের পশু কিনতে পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়েও কেউ কেউ হাটে এসেছিলেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি। যদিও বিক্রেতারা বলছেন, আগেরবারের চেয়ে এবার তাঁদের বেশি দামে গরু কিনতে হয়েছে। তাই তাঁরাও লাভের আশায় একটু বেশি দাম চাইছেন।

একাধিক ইজারাদার জানিয়েছেন, রাজধানীর হাটগুলোতে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পশু তোলা শুরু হলেও বিক্রি শুরু হয়েছে মূলত গতকাল থেকে। ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীতে সাধারণত ঈদের দুই-এক দিন আগে ব্যাপক হারে পশু বিক্রি হয়। এর আগে ক্রেতারা হাটে আসেন মূলত দাম যাচাই-বাছাই করতে। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে পশুর ২২টি অস্থায়ী হাট বসেছে। গাবতলীতে রয়েছে একটি স্থায়ী হাট। সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়া সারুলিয়া ইউনিয়নেও একটি অস্থায়ী হাট বসেছে।

গতকাল দনিয়া কলেজসংলগ্ন হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়ায় হাট ভরে গেছে। ক্রেতাও অনেক। হাটের ইজারাদারের হাসিল কাউন্টারে গিয়ে জানা যায়, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৫টি গরু বিক্রি হওয়ার তথ্য পেয়েছে তারা। ইজারাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের হাটে পর্যাপ্ত গরু এসেছে। আরো অনেক ট্রাক গরু নিয়ে রাস্তায় আছে। আশা করছি শনি (আজ) ও রবিবার ব্যাপকভাবে বিক্রি শুরু হবে। ’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উত্তর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মাঠে ৩২টি গরু নিয়ে গত মঙ্গলবার এসেছেন মো. মনিরুদ্দিন। কুষ্টিয়ার শেখপাড়া এলাকা থেকে এসেছেন তিনি। তিন-চার দিন পার হলেও একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। তা সত্ত্বেও হতাশ নন। মনিরুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অন্য বছরের তুলনায় দেশি গরু হাটে এসেছে বেশি। ক্রেতাও এসেছে অনেক। তবে তারা দাম জেনেই চলে যায়। মূল বিক্রি শুরু হবে ঈদের দুই-এক দিন আগে। ’ গত বছরের তুলনায় দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এবার একটু বেশি দাম দিয়ে গরু কিনতে হয়েছে। তাই বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়িয়ে বিক্রি করতে হবে। ’

শাহজাহানপুরের এ হাটে দেখা যায়, পাইকাররা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু নিয়ে এসেছেন। ক্রেতা বেশি থাকলেও তাঁদের বেশির ভাগই মূলত দর-দাম যাচাই করছেন। খিলগাঁও ডি-ব্লক থেকে ছোট ছেলেকে নিয়ে হাটে এসেছিলেন খন্দকার তুহিন আলী। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, গরুর দাম যাচাই করতে এসেছি। ঈদের এক দিন আগে কিনতে হবে। এখন গরু নিয়ে রাখার জায়গা নেই। বাজার ঘুরে দেখেছি, গত বছরের তুলনায় প্রতি গরুর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি। একটি ছোট সাইজের গরুর দাম চাচ্ছে ৬০ হাজার টাকা। অথচ এ সাইজের গরু আমরা গত বছর কিনেছি ৪৭ হাজার টাকা দিয়ে। ’

তাঁর কথার অনেকটা সত্যতা মিলেছে বেশ কয়েকজন গরু বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার পর। একটি ছোট আকারের দেশি গরু ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। মাঝারি আকারের গরুর দাম চাইছেন তাঁরা ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। আকার আরেকটু বড় হলেই তার দাম এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় দাম বেশি চাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ থেকে আসা মো. সাহেব আলী বলেন, ‘আমি প্রতিবছর ঢাকায় কোরবানির গরু নিয়ে আসি। এবারও ১৮টি গরু নিয়ে এসেছি। দাম শুনে ক্রেতারা চলে যাওয়ায় একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। কিন্তু আমাদের তো এসব গরু দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে। কম দামে বিক্রি কিভাবে করব। ’

রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে গতকাল অন্য হাটগুলোর তুলনায় বিক্রি বেশি হয়েছে। সেখানে ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকেও অনেক ক্রেতা এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কথা হয় আমিনবাজার থেকে আসা মমিনুল ইসলাম আকন্দের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘৬৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। অন্য বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। হাটে প্রচুর পশুর সরবরাহ থাকার পরও দাম বেশি কেন, বুঝতে পারছি না। ’

হাজারিবাগ ঝিগাতলা মাঠে গিয়েও দেখা যায় প্রচুর গরু। এ হাটে বেশির ভাগ বিক্রেতা গরু বেঁধে রেখেছেন রাস্তার ওপর। গরু ব্যবসায়ী কাজল মিয়া বলেন, ‘এ বছর রাস্তায় গরুর ট্রাক নিয়ে আসতে পুলিশ বা অন্য কাউকে চাঁদা দিতে হয়নি। গত বছর এ হাটে আসার সময় উত্তরায় আরেকটি হাটের লোকজন জোর করে গরু নিয়ে গেছে। লাঠি হাতে একদল যুবক এ কাজ করেছে। কিন্তু এ বছর এমন সমস্যাও হয়নি। ’

এবার রাজধানীর হাটগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মাবুদ বলেন, একটি হাটে আমরা ৫০ জন ফোর্স দিয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি।


মন্তব্য