kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘মেয়েকে হারিয়েছি, এখন নিজের জানটাও যাবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘যৌতুকের জন্য সাড়ে তিন মাস আগে আমার একমাত্র মেয়ে রওশনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর আদালতে মামলা করি।

হত্যাকারীরা প্রভাশালী। তাই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মেয়েকে হারিয়েছি, এখন মনে হয় নিজের জানটাও যাবে। ’ এই বলে অঝোরে কাঁদছিলেন মা নাসিমা বিবি।

রাজশাহীর পবা উপজেলার মাঝিগ্রামে মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা নাসিমা বিবি। হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় সাড়ে তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি নগরীর শাহমখদুম থানার পুলিশ।

পরিবারটি অভিযোগ করে জানায়, প্রভাবশালী হওয়ায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। উল্টো জামাই আফজাল হোসেন এবং তাঁর পরিবারের লোকজন মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাঝিগ্রামে প্রায় আড়াই বছর আগে রফিকুল ইসলামের মেয়ে রওশন ওরফে রশেনারার (২০) সঙ্গে আফজাল হোসেনের বিয়ে হয়। এরপর আফজাল এক লাখ টাকা যৌতুক চান। ওই টাকা না পাওয়ায় রওশনের ওপর বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালাতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ মে আফজাল তাঁর পরিবারের লোকজনের সহায়তায় স্ত্রীকে পিটিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে রওশনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর আফজাল ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। হাসপাতালে আনার পর রওশন ওই দিন রাতে মারা যান।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আফজাল হোসেন তাঁর স্ত্রী রওশনকে হত্যার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। আমি তাকে কোনো নির্যাতন করিনি। মামলা তুলে নিতে কোনো চাপও দেওয়া হচ্ছে না। ’


মন্তব্য