kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিলেট নগরজুড়ে অবৈধ পশুর হাট

দখল নিয়ে হামলা সংঘর্ষ

সিলেট অফিস   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিলেটে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। নগরে মাত্র দুটি হাট বসানোর অনুমোদন থাকলেও ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক অবৈধ হাট বসেছে নগরে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে এসব হাট বসেছে। হাটের দখল নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল শুক্রবার থেকে কোরবানির হাট জমে উঠেছে। নগরের কাজিরবাজার পশুর হাটে পাইকাররা দেশি-বিদেশি বড় বড় গরু-ছাগল নিয়ে আসছে। তবে অধিকাংশই দেশি গরু। বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গরু-ছাগলের দাম গতবারের চেয়ে এবার একটু বেশি।

সিলেটের হোসাইন দুগ্ধ খামারের মালিক কবির মেম্বার জানান, এবার প্রায় ৭০টির মতো গরু হাটে তুলেছেন তিনি। লোকজন গরু দেখছে, দরদাম করছে। গড়পড়তা প্রতিটি গরুর দাম আড়াই লাখ টাকা হাঁকলেও দুই লাখ টাকার কমে গরু বিক্রি করবেন না বলে তিনি জানান।

কাজিরবাজার পশুর হাটের ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন জানান, হাটে পাইকাররা দেশি-বিদেশি গরু নিয়ে আসছে। দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় রয়েছে বিশেষ দল।

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই নগরজুড়ে অবৈধ হাট বসানো শুরু হয়েছে। নগরে দুটি হাট বসানোর অনুমোদন থাকলেও ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক স্থানে হাট বসানো হয়েছে। প্রতিদিন এ সংখ্যা বাড়ছে। নগরে একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট কাজিরবাজার।

এ ছাড়া কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মেন্দিবাগ এলাকায় কয়েদির মাঠে পশুর হাট বসানোর জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। কদমতলী পয়েন্টে আরেকটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিতে চায় সিটি করপোরেশন। এ লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ হাট ইজারা দেওয়া হলে নগরে বৈধ পশুর হাট হবে তিনটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরের কুমারপাড়া, শাহী ঈদগাহ উপজেলা মাঠ, আখালিয়া বিজিবি মাঠ, মাছিমপুর, মেডিক্যাল রোড, রিকাবীবাজার, খরাদিপাড়া আনন্দ মাঠ, টিলাগড় পয়েন্ট, বালুচর খেলার মাঠ, চালিবন্দরে ক্রীড়া কমপ্লেক্সের মুখ, লাক্কাতুরা, মেন্দিবাগ পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসানো হয়েছে, যেগুলোর অনুমোদন নেই।

নগরের পূর্ব শাহী ঈদগাহ এলাকায় সদর উপজেলা খেলার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মাঠে শামিয়ানা টানানো হয়েছে। পাশাপাশি হাসিল আদায়ের জন্য কাউন্টারও করা হয়েছে। অথচ সিলেট সিটি করপোরেশন কিংবা সিলেট সদর উপজেলা থেকে এ ধরনের কোনো হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যেগে পরিচালিত এ পশুর হাটের মূল নিয়ন্ত্রক বিএনপি-জামায়াতের লোকজন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

শাহী ঈদগাহ এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় কালাপাথর মাঠে মালিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে বৃহত্তর শাহী ঈদগাহ এলাকার শিশু, কিশোর ও যুবকদের খেলাধুলার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে সদর উপজেলা খেলার মাঠ। কিন্তু মাঠটি খেলাধুলার পরিবর্তে কখনো মেলা, কখনো পশুর হাটে পরিণত হয়। এর জন্য সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমদকে দায়ী করছে এলাকাবাসী। তারা জানায়, আশফাক আহমদের নাম ভাঙিয়েই মেলা কিংবা পশুর হাট বসানো হচ্ছে।

সম্প্রতি সদর উপজেলা খেলার মাঠে মেলা কিংবা পশুর হাট না বসানোর দাবিতে স্কলার্স হোম স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। গত ২৮ আগস্ট ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা খেলার মাঠে কোনো ধরনের পশুর হাট না বসানোর দাবিতে স্মারকলিপি  দেওয়া হয়।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, নগরীর মাছিমপুরে কয়েদির মাঠ ও কাজিবাজার ছাড়া অন্যত্র যত পশুর হাট আছে, সেগুলো অবৈধ।


মন্তব্য