kalerkantho


ফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে কারাবন্দিরা

ওমর ফারুক ও মোশতাক আহমদ   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে কারাবন্দিরা

কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিগগিরই এ কার্যক্রম চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে যন্ত্রপাতি বসিয়ে পাইলট প্রজেক্ট চালু করা হবে। আর এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধনকালে বন্দিদের জীবনমানের উন্নয়ন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিতে কিছু নির্দেশনা দেন। তাতে নির্দিষ্ট সময় পর পর কারাবন্দিদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বজনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার নির্দেশনাও ছিল। সে অনুযায়ী এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কারাগারে টেলিফোন বুথ খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-৩ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা আজকালের মধ্যেই আইজি প্রিজনসসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে একটি কারাগারে ফোন বুথ খোলা হবে। এর কার্যকারিতা দেখে পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিটি কারাগারে ফোন বুথ খুলে বন্দিদের এ সুবিধা দেওয়া হবে। সূত্র জানায়, দুর্নীতি কমানো ও বন্দিদের স্বজনদের সুবিধার্থে দেশের প্রতিটি কারাগারে ফোন বুথ খুলে কথা বলার জন্য বছরখানেক আগে উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন থেকেই এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। কারা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বৈঠকও করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের এআইজি (প্রিজনস) আব্দুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুব শিগগির পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে। এরই মধ্যে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’ 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বুথ থেকে কিভাবে কোন শ্রেণির বন্দি কথা বলতে পারবে তার একটি নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সময় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। আর টেলিফোনে কথোপকথন নজরদারিতে রাখতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। আর এ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বন্দিরা কারারক্ষীদের কাছ থেকে আর মোবাইল ফোন নিয়ে কথা বলবেন না। ফলে দুর্নীতি কমবে।

জানতে চাইলে ঊর্ধ্বতন এক কারা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা দ্রুতই চেষ্টা করছিলাম সব কারাগারে ফোন বুথ খুলে স্বজনদের সঙ্গে বন্দিদের কথা বলার সুযোগ করিয়ে দিতে। ’

গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর কারাগারে ফোন বুথ খোলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই বিভাগ সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বছরখানেক আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল কয়েকটি দেশের কারাগার পরিদর্শন করে। তারা দেখতে পায়, অনেক দেশেই কারাবন্দিরা টেলিফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। এমনকি পাশের দেশ ভারতের কারাগারেও এ ব্যবস্থা রয়েছে। এর পরপরই বাংলাদেশেও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকগুলোতে প্রতিটি কারাগারে ফোন বুথ খোলার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। আর এ বুথ স্থাপিত হলে দাগি সন্ত্রাসীরা ছাড়া সাধারণ বন্দিরা নীতিমালা মেনে স্বজনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পারবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা বলেন, ‘বন্দিদের অনেক স্বজন দেখা করার জন্য প্রতিদিন কারাগারের সামনে ভিড় করে। কেউ কেউ অনেক দূর থেকেও আসে। চাপের কারণে সবাইকে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া যায় না। ফোন বুথ খোলা হলে কারাগারে স্বজনদের দেখা করার চাপ কমবে। তাদের দুর্ভোগও কমবে। ’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে কোনো বন্দি যাতে মোবাইল ফোনে কথা বলতে না পারে সে জন্য কারাগারগুলোতে মোবাইল জ্যামার বসানো আছে। এর পরও সন্ত্রাসীরা কারাগারে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সুযোগে প্রতি মিনিট ৫০ থেকে ৫০০ টাকা করে মোবাইল ফোনের মিনিট বিক্রি করে অসাধু কারারক্ষীরা। বিশেষত বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের সময়টাতে যখন জ্যামার কাজ করে না তখন কারাগারে এই মোবাইল ফোনের মিনিট বিক্রির কাজটি বেশি চলে। আর অন্য সময়ও নানা কায়দায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।


মন্তব্য