kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানবতাবিরোধী অপরাধ

বিচারের বিরোধিতা করেই চলেছে পাকিস্তান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অপব্যাখ্যা করে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতা করেই চলেছে পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া ‘যুদ্ধাপরাধের’ বিচারের বিরোধিতা করেন।

রেডিও পাকিস্তানের অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘যুদ্ধাপরাধী’ মীর কাসেম আলীর পরিবারকে সমবেদনা জানান।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত শনিবার রাতে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরই পাকিস্তান এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে বাংলাদেশ এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বাংলাদেশ পাকিস্তানকে স্পষ্ট বলেছে, ১৯৭৪ সালের চুক্তি ছিল ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর দেশে প্রত্যাবাসন বিষয়ে। বাংলাদেশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না—এমন কোনো কথা সেখানে নেই।

অপরাধ নয়, বরং এর বিচার করাকেই অপরাধ ও নৃশংসতা হিসেবে দেখছে পাকিস্তান জামায়াত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়াবহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়া পাকিস্তানের দোসরদের অপরাধ নিয়ে তাদের কোনো মন্তব্যই নেই। তারা কেবল প্রচার করছে, গণহত্যাকারীদের সাজা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সরকার নৃশংসতা করছে।

তবে বাংলাদেশ বারবারই পাকিস্তানকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো ১৯৭১ সালের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততাই প্রমাণ করছে।

জানা গেছে, পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর মতো কট্টর কিছু রাজনৈতিক দলের চাপের মুখে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। একাত্তরের জল্লাদ আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসির নিন্দা জানিয়ে গত বুধবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়, সেটিও উত্থাপন করেন জামায়াতদলীয় এক সদস্য।

বাংলাদেশি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পাকিস্তানের জামায়াত তাদের নেতা হিসেবে অভিহিত করে বিচার ঠেকাতে না পারায় পাকিস্তান সরকারের সমালোচনা করছে। পাকিস্তান জামায়াতের প্রধান সিরাজুল হক তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে গত রবিবার থেকে যেসব বার্তা দিচ্ছেন এর সবই বাংলাদেশকে ঘিরে। প্রতিদিনই তিনি বাংলাদেশ সরকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে বিষোদ্গার করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, বিচার ঠেকাতে ব্যর্থ হলে পাকিস্তানকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।

জানা গেছে, পাকিস্তান জামায়াত গতকাল ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েও পরে তা অন্যত্র সরিয়ে নেয়।


মন্তব্য