kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিখা প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন

মা ও শিশুর অপুষ্টি দূর করা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মা ও শিশুর অপুষ্টি দূর করা সম্ভব

সচেতনতার ভিত্তিতে আচরণ ও অভ্যাসে পরিবর্তনের মাধ্যমে মা ও শিশুর অপুষ্টি বহুলাংশে দূর করা সম্ভব। ইউএসএইডের আওতায় দেশের দুটি বিভাগের পাঁচ জেলার ২৬ উপজেলায় পরিচালিত শিখা প্রকল্পের কার্যক্রমের মাধ্যমে কয়েকটি সূচকে এমন সফল্যের চিত্র পাওয়া গেছে।

রাজধানীর একটি হোটেলের কনফারেন্স হলে গতকাল বুধবার শিখা প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়ন সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান ও নিউজ২৪।

ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুকে খাওয়ানো সম্পর্কিত সাতটি সূচকের সব কটিতেই তুলনামূলক ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে। এর মধ্যে জন্মের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে নবজাতককে বুকের দুধ দেওয়ার হার সচেতনতা কার্যক্রম শুরুর আগে যেখানে ছিল ৬২ শতাংশ, সচেতনতা বাড়ানোর পর তা হয়েছে ৮৩ শতাংশ, বৈচিত্র্যময় খাদ্য খাওয়ার পরিবর্তনের হার আগে ছিল ২১ শতাংশ, এখন হয়েছে ৫৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গর্ভবতী নারীর শুধু ভাতের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও অনেক উন্নতি হয়েছে। অবশ্য প্রকল্প শুরুর এক বছর পরে দেখা গেছে—কিশোরী গর্ভবতীদের খাবারের ক্ষেত্রে তেমন উন্নতি হয়নি, তবে পরবর্তী সময়ে বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে শাশুড়িদের উপস্থিতিতে কাউন্সেলিং করার পর কিশোরী গর্ভবতীদের মধ্যে অনেক উন্নতি হয়েছে। গর্ভবতীদের কাউন্সেলিং করার জন্য শিখা প্রকল্পের উদ্যোগে একটি ফুড প্লেট ডিজাইন করা হয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মী ও গর্ভবতীরা এই প্লেট পছন্দ করেছে। তাদের মতে, এটি তাদের সঠিকভাবে ও কী কী খেতে হবে তা মনে রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই প্লেটটি কাউন্সেলিংয়ের জন্য অনুমোদন করেছে। শিখা প্রকল্পের কর্ম এলাকার সব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীকে এই প্লেটের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের বলেন, ‘আমাদের উচিত হবে শিশু-কিশোর বয়সে যাতে কারোই বিয়ে না হয় সেদিকে আরো নজর রাখা। বাল্যবিয়ে রোধ করা না গেলে আমাদের কোনো অর্জনই টেকসই হবে না। কারণ বাল্যবয়সে বিয়ে এবং সন্তান নিলে ওই মেয়ের যেমন নানামুখী শারীরিক সমস্যা হয়, তেমনি জন্ম নেওয়া সন্তানও বহু রকম বিপদের মুখে পড়ে। তাই কিশোরী বিয়ে ও সন্তানধারণ ঠেকানো গেলে অনেক সমস্যার সহজেই সমাধান ঘটবে।

জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম মুজহারুল ইসলাম বলেন, মাঠপর্যায়ে বয়ঃসন্ধিকালে মেয়ের সচেতনতা বৃদ্ধির খবর খুবই ইতিবাচক। এ উন্নতিকে ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক ডা. মওদুদ হোসেন, ব্র্যাকের ডা. মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম, এশিয়াটিকের সারা যাকের, সিআইপিআরবির ডা. সাইদুর রহমান মাসরেকি। অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিখা প্রকল্পের চিফ অব পার্টি ডা. শামীম জাহান।


মন্তব্য