kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কম দামে ল্যাপটপ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা

ওমর ফারুক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘সবার জন্য ল্যাপটপ কোর আই থ্রি+ফাইভ+সেভেন মালয়েশিয়ান যেকোনো ব্র্যান্ড সম্পূর্ণ নতুন গ্যারান্টিসহ একদাম = ১৩,৫০০ টাকা। ব্যাংক, বীমা, গ্রুপ কম্পানি অফিসের জন্য বিশেষ ছাড়ে লট মূল্যে পাইকারি বিক্রয়’—এমন বিজ্ঞাপন কয়েক দিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকে দেখে ঢাকার মিরপুরের শহীদুল ইসলাম আগ্রহী হন একটি ল্যাপটপ কেনার জন্য।

বিজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল একটি মোবাইল ফোন নম্বর ও ‘ইস্টার্ন কর্পোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। শহীদুল জানান, কিছুটা কম দামে ল্যাপটপ কেনার বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা নম্বরে যোগাযোগ করে ইস্টার্ন কর্পোরেশন নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ কিনতে চান। বিজ্ঞাপনদাতাদের কথামতো ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন বিকাশে। কিন্তু ল্যাপটপ আর পাননি তিনি। পরে উল্লিখিত নম্বরে ফোন করে উল্টো হুমকির মুখে পড়েন। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পের অবশেষে গত সোমবার সকালে শহীদুল প্রতারণার বিষয় জানিয়ে রাজধানীর কাফরুল থানায় জিডি করেছেন।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জিডিটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। ঘটনা সত্য হলে প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হবে। ’

মিরপুরের শহীদুল ইসলাম জানান, প্রথমে যিনি ফোন ধরেন তিনি তাঁর নাম মেহেদী উল্লেখ করে জানান, একটি ল্যাপটপ তাঁরা বিক্রি করেন না। তবে হোম ডেলিভারি সিস্টেমে একটি ল্যাপটপ বিক্রি করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরপর তাঁর কাছে ল্যাপটপ পৌঁছে দেওয়া হবে। ওই শর্তেই ল্যাপটপ কিনতে রাজি হন শহীদুল। তখন মেহেদী বাংলালিংকের একটি নম্বর দেন টাকা পাঠানোর জন্য। গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শহীদুল নিজের ও দোকানের দুটি নম্বর থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশে পরিশোধ করেন। মেহেদী ওই টাকা পাওয়ার কথা জানিয়ে ল্যাপটপটি কোথায় সরবরাহ করতে হবে তা জানতে চান। শহীদুল জানান, তিনি মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের সামনে থেকে নিতে চান। তাঁরা জানিয়ে দেন, শুক্রবার ১২টার সময় তাঁর কাছে ল্যাপটপ পৌঁছে যাবে। এরপর নির্ধারিত সময়ে শহীদুল গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন শাহ আলী মার্কেটের সামনে। সময় গড়িয়ে যায়, কিন্তু ল্যাপটপ আর আসে না। একপর্যায়ে তিনি ফোন করেন আগের নম্বরে। তখন তাঁকে জানানো হয়, তাঁদের স্টাফদের মধ্যে সমস্যা হয়েছে, এ কারণে গাড়ি যেতে পারেনি। মেহেদী নামধারী ব্যক্তি আরো বলেন, ‘আমি তো আপনাকে আগেই বলেছি, আমরা একটা ল্যাপটপ বিক্রি করি না। আমরা লট বিক্রি করি। আপনি একটা ঝামেলায় ফেলে দিলেন। ’ এরপর শহীদুল আবার ফোন দিলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। প্রতারিত হচ্ছেন বুঝতে পেরে শহীদুল তাঁর এক বন্ধুকে দিয়ে ফোন করান ওই নম্বরে। তাঁর সঙ্গেও তাঁরা একই ধরনের কথা বলেন। শহীদুলের বন্ধু তাঁদের কাছ থেকে ২০০ ল্যাপটপ নেওয়ার কথা বলেন। এরপর তাঁকে বলে দেওয়া হয় দিলকুশার অফিসে যাওয়ার জন্য। পরে আবার ফোন করে তাঁকে জানানো হয়, এত ল্যাপটপ কিনতে চাইছেন, তাহলে পরীক্ষামূলক হিসেবে একটি ল্যাপটপের টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে জমা দেন বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করার জন্য। তখন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর জানতে চান শহীদুলের বন্ধু। এরপর থেকে আর তাঁরা ফোন ধরেননি।

শহীদুল গত সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছোট ভাই এবার এইচএসসি পাস করেছে ভালো রেজাল্ট নিয়ে। তাকে একটা গিফট দেওয়ার চিন্তা করছিলাম। ভাবলাম একটা ল্যাপটপ দিলে তার উপকার হবে। এ কারণে অপেক্ষাকৃত কম দামে ল্যাপটপের বিজ্ঞাপন দেখে এমন প্রতারিত হলাম। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি জিডি করেছি এই কারণে যে আমার মতো আর কাউকে যাতে এমন প্রতারণার শিকার হতে না হয়। ’

গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে পত্রিকার বিজ্ঞাপনে থাকা ০১৮১৩২৭১১১১ নম্বরে কালের কণ্ঠ থেকে ফোন করা হলে একজন ফোন ধরেন। পরিচয় প্রকাশ না করে ল্যাপটপের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘বিকাশে টাকা পাঠালে হোম ডেলিভারি দেওয়া হয়। ’ পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বললে লোকটি বলেন, ‘কেউ কি জিনিস না দেখে আগে টাকা দেয়?’ অফিসের ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁদের অফিস মতিঝিলের দিলকুশা ১০ নম্বর ভবনে। পরে তাঁর নাম জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহীদুলের মতো এভাবে আরো অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে। প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশলে প্রতারণা করছে। পুলিশ বলছে, তাদের কাছে নানা ধরনের প্রতারণার খবর আসছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতারকদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তত্পর রয়েছে। তবে যারা এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছে, তাদেরও সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। কার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে, সেটা আগে ভেবে দেখতে হবে। ’


মন্তব্য