kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুলনা বিভাগে প্রাথমিক বিদ্যালয়

দেড় হাজার স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

কৌশিক দে, খুলনা   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দেড় হাজার স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

খুলনা বিভাগে প্রায় দেড় হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকদের দ্বৈত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কোনো মতে চলছে স্কুলগুলো।

কোনো স্কুলে আট থেকে দশ বছর ধরে চলছে এ অবস্থা। সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষক শূন্য স্কুল রয়েছে যশোরে। এ জেলায় এক হাজার ২৩২টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৯৩২ জন। শূন্য রয়েছে ৩০০টি প্রধান শিক্ষকের পদ। এ নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে রয়েছে ক্ষোভ। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।  

খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০টি জেলায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকের পদসংখ্যা ছয় হাজার ৫৪৮টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন পাঁচ হাজার ১১৫ জন। আর শূন্য রয়েছে এক হাজার ৪৩৩টি। এর মধ্যে খুলনা জেলায় শূন্য রয়েছে ১০৮টি, বাগেরহাটে ১২১, সাতক্ষীরায় ২১৭, যশোরে ৩০০, ঝিনাইদহে ১৮৩, মাগুরায় ১৩৬, কুষ্টিয়ায় ১৬৫, চুয়াডাঙ্গায় ১২৮, নড়াইলে ৩২ ও মেহেরপুরে ৪৩টি প্রধান শিক্ষকের পদ। অন্যদিকে বিভাগের ১০টি জেলায় সহকারী শিক্ষকের ৩১ হাজার ৬০৬টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে দুই হাজার ৬৩১টি।

মহানগরী খুলনার নজরুলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আট বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষক সুষমা বালা। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সাত-আটটি ক্লাস নিতে হয়, একটি ক্লাস শেষ করে আরেকটিতে ছুটতে হয়। ’ প্রতিনিয়ত পাঠদান ও একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ করতে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়।

নগরীর নুতনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একইভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান শামসী। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকটে এমনিতেই আমরা কষ্টে রয়েছি। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিতে পারি না। ’ 

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমনিতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক কম। তার ওপর প্রধান শিক্ষক না থাকা মানে একজন শিক্ষক কমে যাওয়া। প্রধান শিক্ষক তাঁর দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি পাঠদানও করেন। ফলে যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই সেসব বিদ্যালয়ে পরিপূর্ণ শিক্ষদান ব্যাহত হচ্ছে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৫ শতাংশ শিক্ষক নতুন আর ৬৫ শতাংশ শিক্ষক পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু বিগত চার বছর ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় জেলার শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে। প্রতিবছরই শিক্ষকরা অবসরে যাচ্ছেন কিন্তু সেসব শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না। ’

প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক এ কে এম গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গোটা বিভাগের অবস্থাই নাজুক। আট হাজার ৫৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক হাজার ৪৩৩টি চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। এ বিষয় ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী সুপারিশ ও তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে; দ্রতই এ সংকটের কিছুটা উন্নতি হবে আশা করছি। ’


মন্তব্য