kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এনআইডির স্মার্ট কার্ড

ঢাকার সঙ্গেই পাচ্ছে রৌমারীর ভোটাররা

কাজী হাফিজ   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঢাকার সঙ্গেই পাচ্ছে রৌমারীর ভোটাররা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলের ভোটাররা প্রথম দফায় জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির স্মার্ট কার্ড পাচ্ছেন। আগামী ২ অক্টোবর ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হবে, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরদিন রৌমারীর চরাঞ্চলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজে এ কার্ড বিতরণ শুরু করবেন।

গত ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির মাধ্যমে ২ অক্টোবর ঢাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের উদ্বোধনের তারিখ নিশ্চিত করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন (ইসি) গতকাল সোমবার রৌমারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ঢাকার সঙ্গে দেশের দুর্যোগপূর্ণ বা অনগ্রসর কোনো এলাকায় এ কার্ড বিতরণ করা হবে—এ বিষয়ে আগেই কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল। গতকাল সেই এলাকা নির্ধারণ করা হয়।

ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ৩ অক্টোবর সিইসি উপস্থিত থেকে রৌমারীর একটি চরের ভোটারদের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ শুরু করবেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, এনআইডির স্মার্ট কার্ড বিতরণের জন্য দেড় হাজার জনবলের ৭৫টি দল কাজ করবে। ঢাকায় কবে কোথায় এ কার্ড বিতরণ হবে, সে সম্পর্কে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার (আজ) এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের  মহাপরিচালকের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বৈঠক রয়েছে।

ঢাকার কোন এলাকায় প্রথমে স্মার্ট কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হবে এবং কবে নাগাদ শেষ হবে—এ প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, যেহেতু ওসমানী মিলনায়তনে এর উদ্বোধন হচ্ছে, সেহেতু ওই এলাকাতে প্রথমে বিতরণ শুরু হতে পারে। সব এলাকায় একসঙ্গে বিতরণ শুরু করা যাবে না, এ জন্য সময় লাগবে।

ইসি সচিব আরো জানান, স্মার্ট কার্ড পেতে হলে বিদ্যমান এনআইডি সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। বিদ্যমান কার্ড জমা দিয়েই স্মার্ট কার্ড নিতে হবে। যাদের এনআইডি হারিয়ে গেছে, তাদের দ্রুত ওই কার্ড সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দিন জানান,  যাঁরা ভোটার হওয়ার পর এখনো এনআইডি কার্ড পাননি তাঁদেরও আগে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। ওই কার্ড জমা দিয়েই স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

সংশোধনের বিষয়ে সচিব জানান, প্রথম পর্যায়ে যেসব এলাকায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ হতে যাচ্ছে সে সব এলাকার নাগরিকরা এনআইডির তথ্য এখন সংশোধন করলেও তা কাজে লাগবে না। কারণ ওই সব এলাকার স্মার্ট কার্ড ইতিমধ্যেই ছাপা হয়ে গেছে। কার্ড সংগ্রহের পর সংশোধন করাই ভালো হবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে জানানো হয়, স্মার্ট কার্ড নিতে হলে নাগরিকদের ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির ছবি দিতে হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্রে যে নম্বর দেওয়া আছে তা স্মার্ট কার্ডে ১০ ডিজিটে পাল্টে যাবে। বর্তমানে সাধারণ কাগজে লেমিনেটিং করা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ১৩ ও ১৭ ডিজিটের।

স্মার্ট কার্ডের মধ্যে যে মাইক্রোচিপ দেওয়া থাকবে তাতে একজন নাগরিকের সব তথ্য পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ২৫টি কাজে ব্যবহার করা যাবে এই কার্ড। সরকারি সব অনলাইন সুবিধা, টিআইএন প্রাপ্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, সম্পত্তি কেনাবেচা, ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ, সরকারি ভাতা উত্তোলন, সহায়তা প্রাপ্তি, বিআইএন, শেয়ার-বিও অ্যাকাউন্ট, ট্রেড লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, বীমা স্কিম, বিয়ে রেজিস্ট্রেশন, ই-পাসপোর্ট, ই-গভর্নেন্স, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, মোবাইল সংযোগ, হেলথ কার্ড, ই-ক্যাশ, ব্যাংক লেনদেন ও শিক্ষার্থীদের ভর্তির কাজে ব্যবহার করা হবে স্মার্ট কার্ড।


মন্তব্য