kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজশাহী বিএমডিএ

অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি ঠিকাদারের!

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এক ঠিকাদার বিএমডিএ আহ্বানকৃত টেন্ডারে অংশ নিয়ে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিদেশ থেকে পাইপ আমদানি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারের শিডিউল অনুযায়ী সেচের পাইপ সরবরাহের কাজ পান ওই ঠিকাদার। কিন্তু চীন থেকে তেল-গ্যাসের পাইপ আমদানির কথা বলে এলসি খোলেন তিনি। আর তাতেই সরকারকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আমদানি করেন সেচপাইপ।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিএমডিএর অন্য ঠিকাদারদের পক্ষে আব্দুস সালাম নামের এক ঠিকাদার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া ঢাকার ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে লিখিত আকারে অভিযোগ করেছেন।

লিখিত ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিএমডিএর সেচ প্রকল্পের জন্য গত বছরের ৫ অক্টোবর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এক কোটি টাকার কিছু বেশি টাকার ওই টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ঢাকার মেসার্স ইউনাইটেট ট্রেড মার্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর গত জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের আরেকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিএস ট্রেড সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চীন থেকে পাইপগুলো আমদানির জন্য এলসি খোলে। সেই হিসেবে গত ১৮ জুলাই আমদানীকৃত পাইপগুলো বন্দর থেকে ছাড় করানো হয়। এরপর আমদানির চালানসহ পাইপগুলো বিএমডিএর রাজশাহী নির্বাহী প্রকৌশলী শমসের আলীর কাছে পাঠানো হয়। তিনি সেই পাইপগুলো বুঝেও নেন। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনাইটেট ট্রেড মার্ট বিএমডিএকে সেচকাজে ব্যবহৃত ১৪ ইঞ্চি ডায়া এমএস হাউজিং পাইপই সরবরাহ করেছে। কিন্তু ওই ঠিকাদার তেল বা গ্যাসের জন্য ব্যবহৃত পাইপ আমদানির কথা বলে এলসি খোলেন তিনি।

সূত্র মতে, তেল বা গ্যাসের জন্য ব্যবহৃত পাইপ আমদানি কথা বলে এইচএস কোর্ডের ৭৩০৬.১১.১০  ব্যবহার করে সরকারকে ৩৯ শতাংশ শুল্ক প্রদান করেন ওই ঠিকাদার। কিন্তু ডায়া এমএস হাউজিং পাইপ আমদানি করতে হলে ওই ঠিকাদারকে শুল্ক দিতে হতো মোট মূল্যের ৯১ শতাংশ। ফলে এক কোটি ১৩ লাখ টাকার পাইপ আমদানি করতে ওই ঠিকাদারকে শুল্ক দিতে হতো প্রায় এক কোটি টাকা। কিন্তু মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পাইপগুলো আমদানির জন্য তিনি সেখানে মাত্র ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা শুল্ক প্রদান করেন। এতে সরকার অর্ধকোটিরও বেশি টাকা রাজস্ব হারায়।

এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য মেসার্স ইউনাইটেট ট্রেড মার্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো মোবাইল ফোন বা টেলিফোন নম্বর না পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে টেন্ডার আহ্বানকারী রাজশাহীর বিএমডিএ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী শমসের আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে বিএমডিএর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঠিকাদারকে যে পাইপ সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছিল, সেটিই তিনি সরবরাহ করেছেন। তবে বড় অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তিনি যে অপরাধটি করেছেন, সেটি নিয়েও আমাদের কিছু করার নেই। এটি এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেরই কাজ। তারাই বিষয়টি অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে পারে।


মন্তব্য