kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তুরস্কের মীর কাসেমপ্রীতিতে ঢাকার প্রতিবাদ

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগোবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্ক দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়ায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তুরস্ক দূতাবাসে পাঠানো এক নোট ভারবালে (কূটনৈতিক বার্তা) বাংলাদেশ বলেছে, ওই বিবৃতি সার্বভৌম একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে না।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর গভীর রাতে পাকিস্তান বিবৃতি দেয়। গত রবিবার বাংলাদেশ দেশটির ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। সেদিন তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে মীর কাসেম আলীকে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য ও শীর্ষ অর্থায়নকারী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ফাঁসি কার্যকরের খবরে দুঃখ প্রকাশ করে।

তুরস্ক দূতাবাসে পাঠানো নোট ভারবালে মীর কাসেম আলীর অপরাধগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে কুখ্যাত আলবদর মিলিশিয়া বাহিনীর অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা মীর কাসেম মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতন পরিকল্পনা, প্ররোচনা ও উসকানি দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এক স্বাধীন, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁর বিচার সম্পন্ন করে রায় দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল না। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিচার প্রক্রিয়া পুরোপুরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে।

মীর কাসেম আমাদের নেতা : পাকিস্তান জামায়াত : পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন পত্রিকায় গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মীর কাসেম আলীর মতো যুদ্ধাপরাধীদের পাকিস্তানপন্থী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির সিরাজুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে ‘তাঁদের নেতাদের’ ‘অন্যায্য’ ফাঁসির বিরুদ্ধে তাঁরা আগামী বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন এবং পর্যায়ক্রমে তা অন্য শহরগুলোতে ছড়িয়ে দেবেন। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নীরবতায় পাকিস্তান জামায়াত ক্ষুব্ধ। এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তারা নওয়াজ শরিফের কথিত পানামাগেট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনরত অন্য দলগুলোর সঙ্গে যোগ দিতে পারে।


মন্তব্য