kalerkantho


জ্ঞানের মেলা স্কুল

বেতনের বদলে গাছ-ছাগল

ফখরে আলম, যশোর   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বেতনের বদলে গাছ-ছাগল

যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর গ্রামে ‘জ্ঞানের মেলা’ নামের একটি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন হিসেবে দেওয়া হয়েছে গাছের চারা, হাঁস, মুরগি ও ছাগল। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ২৩ জন শিক্ষককে পারিশ্রমিক হিসেবে এসব তুলে দেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ইবাদ আলী।

এদিকে বেতন হিসেবে কাঁঠাল ও মেহগনির চারা পেয়ে ভীষণ খুশি শিক্ষকরা। তাঁরা শপথ নিয়েছেন, সীতারামপুর গ্রামকে নিরক্ষরতা থেকে মুক্ত করবেন এবং পাশাপাশি বাল্যবিয়ে রোধ করবেন।

জানা যায়, তরুণ কৃষিবিদ ইবাদ আলী অভিনব এক স্কুল তৈরি করেছেন। এই স্কুলের নির্দিষ্ট কোনো স্থান ও সময় নেই। পাঁচজন শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষক পড়াবেন। যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে এই স্কুলের কার্যক্রম চলবে। ছেলে বাবাকে পড়াবেন। পুত্রবধূ শাশুড়িকে পড়াবেন। এভাবেই সীতারামপুরের মানুষ নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে।

গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া ২৩ জন শিক্ষক ১০৪ জন নিরক্ষর মানুষকে পাঠদান করছেন। গতকাল এই শিক্ষকদের প্রত্যেককে বেতন হিসেবে দেওয়া হলো ২০টি করে গাছের চারা আর দুটি করে হাঁস-মুরগি। একটি রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে শিক্ষকরা গাছ বুঝে নিলেন। সেই খাতায় অঙ্গীকার করলেন, ‘আজ থেকে ২০ বছর পর ২০৩৬ সালে এই গাছ কাটা হবে। ’

‘জ্ঞানের মেলা’ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ইবাদ বললেন, ‘এটি আমার ৪ নাম্বার স্কুল। আমি শিক্ষকদের যে গাছ দিচ্ছি আর আগামীতে যে গাছ দেওয়া হবে তাতে গ্রাম আরো সবুজ হবে। আর যে হাঁস-মুরগি দিচ্ছি তা ছয় মাস পরেই দ্বিগুণ সম্পদে পরিণত হবে। ’

গাছ দেওয়ার এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সহকারী পরিচালক বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘ইবাদের নিরক্ষরতা দূরীকরণের মডেলটি খুবই চমত্কার। আমি তাঁর মডেল অনুসরণ করে নিরক্ষরতা দূরীকরণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব রাখব। ’

পার্বতী বিশ্বাস নামের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমি আমার শ্বশুর-শাশুড়ি আর প্রতিবেশী পাঁচজনকে পড়াচ্ছি। গাছ আর হাঁস বেতন পেয়ে আমি খুব খুশি। ’


মন্তব্য