kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিলনমেলা

আজাদী ও চট্টগ্রাম অভিন্ন সত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আজাদী ও চট্টগ্রাম অভিন্ন সত্তা

দৈনিক আজাদীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘সমাজে আজ গভীর অন্তর্দৃষ্টির শূন্যতা চলছে; যে অন্তর্দৃষ্টি ছিল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেকের মতো মানুষের। ’ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এর প্রতিষ্ঠাতাকে এভাবেই স্মরণ করেছেন দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকরা।

তাঁরা বলেছেন, অবহেলিত চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং এ জনপদে আলোকিত মানুষ সৃষ্টিতে দৈনিক আজাদী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক অতুলনীয় দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। আর তাঁর দেখানো পথ ধরে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করেছেন আজাদীকে। এ দুই মহান ব্যক্তিত্ব তাঁদের জীবত্কালে দেখিয়ে গেছেন মানবমুক্তি এবং সমাজমুক্তির লক্ষ্যে কাজ করাই সাংবাদিকদের প্রকৃষ্ট পথ।

চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজাদীর ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত শনিবার রাতে নগরের র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে আয়োজন করা হয় জমকালো অনুষ্ঠানের।

এই অনুষ্ঠান পরিণত হয় স্বনামধন্য ব্যক্তিদের মিলনমেলায়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। পত্রিকাটির পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, দ্য ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, আজ থেকে ৫৬ বছর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬০ সালে আজাদী আত্মপ্রকাশ করে। এর আগে অবশ্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক কোহিনুর নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। পত্রিকা প্রকাশের দুই বছরের মাথায় ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ সালে তিনি মারা যান। এই সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আমৃত্যু কাজ করে যান। ষাটের দশকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যত আন্দোলন-সংগ্রাম সব কিছুর সঙ্গে আজাদী ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরম আনন্দের বিষয়, আজাদী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক। ’

ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সেদিন আজাদীর যাত্রা শুরু যে বক্তব্য দিয়ে, আজও তা আমাদের জাতিকে প্রেরণা জোগাচ্ছে। ৫৭ বছর ধরে পথ চলা, এ সাফল্য শুধুমাত্র আজাদীর নয়, আমরা যাঁরা মিডিয়ার সাথে জড়িত আছি, পেশাজীবী সাংবাদিক আছি, এ সাফল্য আমাদের সকলের। দৈনিক আজাদী সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ’

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘মানুষ কতটা তার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারলে ৪০ বছর ধরে ভোর ৪টায় তাঁর পত্রিকাটি হকারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, চট্টগ্রামবাসীর হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ’

সাংবাদিকতায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে উল্লেখ করে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকার প্রতিবছর এত মানুষকে, এত প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেয় তাহলে আজাদীকে কেন নয়। ’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদকদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবির, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, বাসস সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, একুশে টিভির মাহমুদুর রহমান, দৈনিক পূর্বকোণ সম্পাদক তছলিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক পূর্বদেশ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মু. সিকান্দার খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম, নগর পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, চিটাগাং চেম্বার অ্যান্ড কমার্স প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম প্রমুখ।


মন্তব্য