kalerkantho


ভূমি কমিশনের সভা ঘিরে পাহাড়ে হরতাল

ঘেরাওয়ের হুমকিতে পাল্টাল সভাস্থল

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাঙালিদের হরতাল আর ঘেরাওয়ের হুমকির মুখে সভাস্থল পাল্টে রাঙামাটি শহরের সার্কিট হাউসে গতকাল রবিবার হয়ে গেল পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সভা। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের পর এটিই কমিশনের প্রথম সভা।

সভায় কমিশনের সাত সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সকালে কড়া হরতালের মধ্যে কঠোর নিরাপত্তায় রাঙামাটির সার্কিট হাউসে একের পর এক হাজির হন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পার্বত্য সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারসহ কমিশনের সদস্যরা। শুরুতে কমিশন সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এই তিন অতিথি। পরে শুরু হয় কমিশনের সভা, সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশন চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সার্কেল চিফ এবং বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি।

সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক বলেন, পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন কার্যকর হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিরা ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবেন, এমন শঙ্কা ‘অমূলক’।

এদিকে সভা শেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এবং চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আজ কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হলেও আমরা আশাবাদী এই কমিশন পার্বত্য চুক্তি মোতাবেক পাহাড়ের ভূমি সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাবে। ’ বাঙালিদের সর্বাত্মক হরতাল : এদিকে ভূমি কমিশনের সংশোধিত আইনকে বাঙালিবিদ্বেষী, কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং কমিশনে বাঙালি সদস্য বাড়ানোর দাবিতে বাঙালি সংগঠনগুলোর ডাকে তিন পার্বত্য জেলায় হরতালে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পার্বত্য শহর রাঙামাটি। সকাল থেকে শহরের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। হরতালের সমর্থনে শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করেছে বাঙালিরা।

শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। টহল দিতে দেখা যায় সেনাবাহিনীকেও।

পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এই ভূমি কমিশন পার্বত্য ভূমি বিরোধ সমস্যার সমাধান তো করতে পারবেই না, বরং সংকট আরো বাড়াবে। এই কমিশনের দুজন ছাড়া বাকি সব সদস্যই পাহাড়ি, তাহলে কিভাবে এই কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে? তিনি কমিশনে তিনজন বাঙালি সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।


মন্তব্য