kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্ল্যাকমেইল করে নির্যাতন ছাত্রীর আত্মহত্যা

সোহেল হাফিজ, বরগুনা   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ব্ল্যাকমেইল করে নির্যাতন ছাত্রীর আত্মহত্যা

বরগুনা সদর উপজেলার গুলবুনিয়া গ্রামে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে এক শিশু আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১২ বছর বয়সী ওই শিশুর নাম হাসি।

সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাঁর বাবার নাম আবুল হাওলাদার (৬৫)। পেশায় রিকশাচালক।

মৃত্যুর সাত দিন পর গতকাল রবিবার হাসির পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে এই অভিযোগ জানা যায়। হাসির এক আত্মীয় জানান, যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের কারণে হাসি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। পরে গতকাল বিকেলে গুলবুনিয়া গ্রামে সরেজমিনে গেলে হাসিকে যৌন হয়রানি করার আরো অভিযোগ পাওয়া যায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে।

হাসির খালাতো বোন কারিমা (১২) ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই গ্রামের ইব্রাহীম সিকদারের বখাটে ছেলে বরগুনা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ইমাম হোসেন ইছা (১৯) প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত হাসিকে। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে, কখনো বাড়ির পাশের গুলবুনিয়ার বাজারে হাসিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইছা। অনন্যোপায় হয়ে একসময় প্রলোভনের শিকার হয় হাসি।

একদিন বাড়ির পাশের একটি নির্জন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় হাসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ছবি তোলে ইছা। পরে সেই ছবি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে প্রায়ই হাসিকে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন করতে থাকে ইছা। এরপর একদিন ইছার মোবাইল থেকে সেই ছবি চুরি করে নেয় ইছার ঘনিষ্ঠ সহযোগী একই গ্রামের লিটন হাওলাদারের ছেলে নয়ন (১৬)। এরপর দরিদ্র শিশু হাসিকে মেনে নিতে হয় বখাটে নয়নের অনৈতিক আবদারও। ছবি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে নয়নও প্রায়ই তাকে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন করত। নয়নের মোবাইল ফোনের ছবি যায় একই গ্রামের মাহতাব আকনের ছেলে সুমনের কাছে (১৭)। সেও ফাঁদে ফেলে হাসিকে যৌন নির্যাতন করে। এ অবস্থায় বার বার অপমান সইতে না পেরে গত ২৯ আগস্ট সোমবার রাতে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে দড়িতে ঝুলে আত্মহত্যা করে হাসি।

অভিযুক্ত নয়ন জানায়, ইছার মোবাইল থেকে সে হাসির ছবি চুরি করেছিল। ইছা হাসিকে মোবাইলের ছবি ফাঁস করে দেওয়ার কথা বলে যৌন হয়রানি চালিয়ে আসছিল। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইছা। সে জানায়, নয়ন ও সুমনই হাসিকে নির্যাতন করেছে।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাককে জানালে তাত্ক্ষণিকভাবে গতকাল বিকেলেই তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেপ্তার করান ইছা ও নয়নকে। তিনি এ প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং মাদকের বিরুদ্ধে বরগুনা জেলা পুলিশ সব সময় সোচ্চার।


মন্তব্য