kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কালিয়াকৈরে প্রসূতির পেটে লাথি

জন্মের পর সন্তানের মৃত্যু

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় গত শনিবার রাতে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির পর প্রসূতি মায়ের পেটে লাথি মারা হয়েছে। এতে তাঁর গর্ভের সন্তান আহত হয়ে জন্মের পর মারা গেছে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাই লোকমান হোসেন ও বড় ভাই মহসিন হোসেন। মহসিন তাঁর এক ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। সেই ভাড়াটিয়া লোকমানকে অনুরোধ করেন কয়েক দিন সময় দিতে। এ কথা বলতে গেলে গত শনিবার বিকেলে দুই ভাইয়ে কথাকাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে মহসিনের দুই ছেলে রিয়াদ হোসেন ও আসলাম হোসেন এসে চাচা (লোকমান) ও তাঁর দুই মেয়ে নীলা (১০) ও লামিয়াকে (৮) মারধর করতে থাকে। তাদের চিত্কারে লোকমানের স্ত্রী সেলিনা বেগম (৩৫) ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে স্বামী-সন্তানদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এ সময় রিয়াদ তাঁর পেটে লাথি মারে। এতে ওই নারী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর ১০ মাসের গর্ভ ছিল। ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন নির্ধারণ করেছিলেন চিকিৎসক। আঘাতের পর তাঁকে উদ্ধার করে সফিপুর খাজা মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যায় গর্ভবতীর অস্ত্রোপচার করলে এক মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। নবজাতকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। নবজাতকের নাক, মুখ ও চোখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই মৃতের লাশ উদ্ধার করে। পরে গতকাল রবিবার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। আহত মা সফিপুর খাজা মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে মৃতের বাবা লোকমান হোসেন বাদী হয়ে বড় ভাই মহসিন হোসেন, ভাতিজা রিয়াদ হোসেন ও আসলাম হোসেনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর থানায় মামলা করেন। সফিপুর খাজা মডার্ন হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল মুহাইমিন বলেন, ‘আঘাতজনিত কারণে ওই নবজাতকের শ্বাসকষ্ট হয়। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ’

সন্তানের বাবা লোকমান হোসেন বলেন, ‘তারা বাপবেটা তিনজনে আমাকে মারতে ছিল। এ সময় আমার গর্ভবতী স্ত্রী এগিয়ে এলে ভাতিজা রিয়াদ তাঁর পেটে লাথি দেয়। এতে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ’ কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, ‘এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ’

চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু

এদিকে কালিয়াকৈরে চিকিৎসকের অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবারের এ ঘটনায় মৃতের স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মৃত জসিম উদ্দিন উপজেলার টান কালিয়াকৈর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে জসিম উদ্দিন বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে পান পাতা তুলতে যান। এ সময় কয়েকটি ভিমরুল তাঁর শরীরে হুল ফুটিয়ে দেয়। তাঁর চিত্কার শুনে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি করতে গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে রোগীর পরিবারের তোপের মুখে পড়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন চিকিৎসকরা। পরে রোগীর শরীরে একটি স্যালাইন পুশ করে সারা রাতেও আর কোনো খোঁজ নেননি কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।


মন্তব্য