kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টেন্ডার বাক্স সিলগালা

নারায়ণগঞ্জে পশুহাটের ইজারা নিয়ে উত্তেজনা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ সদরে একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ সময় একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনে।

এ পরিস্থিতিতে দরপত্র বাক্স সিলগালা করে সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে কার্যক্রম। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন এ বছর ফতুল্লার আলীগঞ্জে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাঠসহ সাতটি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ৮-১০ বছর ধরে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাঠে পশুর হাটটি শ্রমিক লীগের ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ ইজারা নিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পলাশ কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের শ্রম ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদকও। এ বছর হাটটির ইজারা খোলা দরপত্রের মাধ্যমে দেওয়ার দাবি জানায় স্থানীয় লোকজন। এ হাটের বিপরীতে এবার ১১টি দরপত্র বিক্রি হয়। গতকাল দরপত্র জমা ও বাক্স খোলার দিন ছিল। এ জন্য সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির ও শ্রমিক লীগ নেতা পলাশের লোকজন পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে ভিড় করতে থাকে। একপর্যায়ে দরপত্র জমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বাগিবতণ্ডা হয়। এ সময় একপক্ষ আরেক পক্ষকে দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহ আলম গাজী টেনু নামের এক ব্যক্তি দরপত্র জমা দিতে যায়। এ সময় শ্রমিক লীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশ তাঁর লোকজন দিয়ে দরপত্র জমা না দিতে তাঁকে (গাজী) বাধা দেয়। বিষয়টি তিনি আমার অফিস কক্ষে গিয়ে আমাকে জানান। তাঁকে আমার সঙ্গে গিয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার কথা বলি। এ সময় পলাশ কয়েক শ লোকজন নিয়ে ওই বাক্সের চারদিক ঘিরে রাখে। গাজী ওই বাক্সের কাছে গেলে আমার সামনে পলাশ ও তাঁর লোকজন দরপত্রটি কেড়ে নেয় এবং আমাকেও হুমকি-ধমকি দেয়। বিষয়টি লিখিতভাবে গাজী ইউএনওকে জানিয়েছেন। ’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিক লীগ নেতা পলাশ জানান, ‘নির্ধারিত সময়ের পর ফাতেমা মনির তাঁর লোকজন নিয়ে দরপত্র জমা দিতে এলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এ নিয়ে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে চলে যান। ’

এদিকে ইউএনও আফরোজা আক্তার চৌধুরী জানান, ঘটনার সময় তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি জরুরি সভায় ছিলেন। তিনি আরো জানান, পলাশ ও গাজীর কাছ থেকে আলাদা দুটি অভিযোগ পেয়েছি। আপাতত দরপত্র বাক্সটি সিলগালা করা হয়েছে। এর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল, যার কারণে বড় কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ওয়াসার বিশুদ্ধ পানি চেয়ে মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়াসার দুর্গন্ধ, নোংরা ও ময়লাযুক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই সব এলাকায় নোংরা পানিও সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। আসন্ন ঈদুল আজহা ও শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বিশুদ্ধ পানির দাবিতে মানববন্ধন করেছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। রবিবার সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ওয়াসার পানি সরবরাহ নিশ্চিত কর, জীবাণুমুক্ত বিশুদ্ধ পানি চাই’  স্লোগানে মানববন্ধনে অংশ নেয় ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ।

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে আমরা ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত, এমনকি পোকামাকড়যুক্ত পানি পেলেও কয়েক দিন ধরে সেই ময়লা পানিও পাচ্ছি না। এমনিতেই দিনে দুইবার পানি পাওয়া গেলেও এখন একেবারেই পানির লাইনে পানি আসছে না। একে তো পানি আসে না, তার ওপর পানির বিলের জন্য প্রত্যেক বাসাবাড়ির মালিককে বিরক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। দ্রুত পানির বিল পরিশোধ করা না হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। আমরা আগেও পানির বিল পরিশোধ করে এসেছি, এখনো পরিশোধ করে দেব। আমাদের বাসাবাড়ির পানির লাইনে পানি চাই। বিশুদ্ধ দুর্গন্ধমুক্ত, পরিষ্কার পানি চাই। ’

এ সময় বক্তারা অবিলম্বে পানির সমস্যা সমাধান করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন।


মন্তব্য