kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানিকগঞ্জের চালায় যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমকে দাফন

শহরে আওয়ামী লীগ, নির্মূল কমিটির বিক্ষোভ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীকে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে দাফন করা হয়েছে। সে সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ প্রায় ৪০ জন স্বজন।

  শনিবার রাত ২টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএনের পাহারায় গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তাঁর মরদেহ চালা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৩টা ৪০ মিনিটে দাফন সম্পন্ন হয়।

চালায় দাফন করায় মানিকগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মীর কাসেম আলীর কবর বেশ কয়েক দিন তাদের পাহারায় থাকবে। যেখানে দাফন হয়েছে সেখানে শনিবার দুপুর থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে পোশাকধারী পুলিশ যায়। এরপর সাংবাদিক ও লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে পাঁচটি গাড়িতে করে মীর কাসেম আলীর স্ত্রী ও মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন চালায় পৌঁছে। মরদেহ পৌঁছায় রাত ২টা ৪৫ মিনিটে। তাঁর ভাতিজির স্বামী আবুল হাসান জানাজা পড়ান। আগেই কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। দাফনের পরই আত্মীয়স্বজন ঢাকার দিকে রওনা দেয়। দাফনকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। গত শনিবার বিকেল ৬টার পর চালার দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে লোকজনকে ভিড় করতে দেওয়া হয়নি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের তরা ক্রসব্রিজ থেকে চালা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। চালার সাত কিলোমিটার আগে নালী বাজারে পুলিশ চৌকিতে আটকে দেওয়া হয় সাংবাদিকদের গাড়ি। ফলে দাফনের জায়গায় যেতে পারেননি তাঁরা। ভোর পর্যন্ত কোনো যানবাহনকে ওই চৌকি পার হতে দেওয়া হয়নি। মীর কাসেমের আত্মীয়স্বজনের গাড়িবহরও সেখানে থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পুলিশ পাহারায় তাদের চালায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

মরদেহবাহী গাড়িবহরে ছিল ১৪টি গাড়ি। এগুলোর মধ্যে ১১টি পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএন সদস্যদের গাড়ি এবং তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স ছিল। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে সন্ধ্যার পর চালার আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে চালায় মীর কাসেমকে দাফনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েও করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। তবে মানিকগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ কয়েকটি সংগঠন রাত ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করে।

মীর কাসেমের বাবার বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সুতালরি ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গি গ্রামে। অনেক আগেই ওই গ্রাম পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি হরিরামপুরের চালায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি কেনেন বাড়ি করার জন্য।

 


মন্তব্য