kalerkantho


মীর কাসেমের ফাঁসিতে চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা প্যারেড মাঠে গায়েবানা জানাজার উদ্যোগ নিলে তা প্রতিরোধ করে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে অন্যত্র গায়েবানা জানাজা হয়।

আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পর গতকাল রবিবার সকালে গণজাগরণ মঞ্চ নগরের চেরাগি মোড় থেকে আনন্দ মিছিল বের করে। গণজাগরণ মঞ্চের সদস্যসচিব ডা. চন্দন দাশ ও সমন্বয়কারী শরীফ চৌহানের নেতৃত্বে মিছিলটি আন্দরকিল্লা ঘুরে আবারও চেরাগিতে এসে শেষ হয়। এ সময় মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানান খেলাঘরের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, গণজাগরণ মঞ্চের সদস্যসচিব ডা. চন্দন দাশ ও সমন্বয়কারী শরীফ চৌহান, প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহসভাপতি সুনীল ধর, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী তরুণ উদ্যোগের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রীতম দাশ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মীর কাসেম আলী একাত্তরে চট্টগ্রামের মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিলেন। কাসেম আলীর ফাঁসিতে চট্টগ্রাম কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সদস্যদের যেকোনো নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তাঁরা।

সকাল ১১টায় চট্টগ্রামের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডাররা নগরের দারুল ফজল মার্কেট চত্বরে সমবেত হন।

এ সময় তাঁরা একে অন্যকে মিষ্টি খাইয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। এরপর জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা নিয়ে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে ‘ফাঁসি হলো ফাঁসি হলো মীর কাসেমের ফাঁসি হলো’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। আনন্দ সমাবেশে বক্তব্য দেন মিরসরাই উপজেলা কমান্ডার কবির আহমদ, সন্দ্বীপের সিদ্দিকুর রহমান, সাতকানিয়ার আবু তাহের, চন্দনাইশের জাফর আলী, পটিয়ার ডেপুটি কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান, সীতাকুণ্ডের নুরুল আনোয়ার, জেলার ডেপুটি কমান্ডার মাহবুবুল আলম চৌধুরী, কমান্ডার বদিউল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আমিরুন নেসা জেরিন প্রমুখ। সমাবেশে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলী কোটি কোটি ডলার খরচ করে বাংলাদেশে জঙ্গি রাষ্ট্র কায়েমের ষড়যন্ত্র করেছিল। একাত্তরে জসিমসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা ও নির্যাতন করেছিল মীর কাসেম। ডালিম হোটেলে তার অবর্ণনীয় নির্যাতনের মুখে অনেকে চট্টগ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেঁচেছিল। কুখ্যাত এ রাজাকারের ফাঁসি কার্যকর করায় চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা খুশি, শহীদদের স্বজনরা খুশি, পুরো জাতি খুশি। মীর কাসেম এবং তার আগে চট্টগ্রামের আরেক কুখ্যাত রাজাকার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করায় চট্টগ্রাম কলঙ্কমুক্ত হলো। ’


মন্তব্য