kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আ. লীগের গঠনতন্ত্র উপকমিটির বৈঠক

সব পর্যায়ের কমিটির পরিসর বাড়াতে প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত সব পর্যায়ের কমিটির পরিসর বাড়ানোর প্রস্তাব উঠেছে। দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র উপকমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।

তাঁরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার বাস্তবতায় দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে সম্পাদকমণ্ডলী ও সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। গতকাল রবিবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওই বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গঠনতন্ত্র উপকমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, মুহম্মদ ফারুক খান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

গঠনতন্ত্র উপকমিটির সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈঠকে সংগঠনের সব পর্যায়ে কমিটির পরিসর বাড়ানো, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ড গঠন ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ, সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাউন্সিলর নির্বাচন—মূলত এ তিন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা আবারও আলোচনায় বসব। এরপর প্রস্তাব চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উত্থাপন করব। ’

গঠনতন্ত্র উপকমিটির সদস্যসচিব আফজাল হোসেন বলেন, ‘কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে। ২২ ও ২৩ অক্টোবর কাউন্সিলের আগে আমরা কয়েক দফায় বৈঠকে বসে এসব প্রস্তাব চূড়ান্ত করব। ’ বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, কমিটির সদস্যরা বৈঠকে আগামী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের কমিটির পরিসর বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের আকার বাড়ানো নিয়েও কথা হয়। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ তিনটি থেকে বাড়িয়ে পাঁচটি এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যা সাতজন থেকে বাড়িয়ে ১০ জন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ প্রস্তাব আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তোলা হবে। কেন্দ্রের অনুমোদন মিললে তা জাতীয় সম্মেলনে উত্থাপন করা হবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।

বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বর্তমানে সাত সাংগঠনিক বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাতজন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। যে কারণে নতুন এবং প্রস্তাবিত বিভাগের কথা চিন্তা করে সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ জন করার সুপারিশ করেছে গঠনতন্ত্র উপকমিটি। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদ সৃষ্টি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন নেতারা। ’

বৈঠক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি আগে ছিল না। এবার এ প্রক্রিয়াটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ১৭ অথবা ১৯ সদস্যের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বৈঠকে।


মন্তব্য