kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজধানীর চতুর্দিকে হবে বৃত্তাকার রেলপথ

নিখিল ভদ্র   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর চতুর্দিকে হবে বৃত্তাকার রেলপথ

রাজধানীর চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে মাওয়া রুটে কমিউটার ট্রেন চালু করা হবে।

যানজট নিরসনে এ ধরনের সাত দফা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এরই মধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।

সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও কাউন্সিল অফিসার মো. আব্দুল বারেক বিশ্বাস স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনটি নিয়ে আলোচনা শেষে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা শহরের চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্য সমীক্ষা প্রস্তাব ২০১৫ সালের ২৯ জুন পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এর আগের দিন ২৮ জুন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্য সমীক্ষা কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সমীক্ষা প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে।

যানজট নিরসনে ঢাকা থেকে মাওয়া রুটে কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ট্রেন পরিচালনার জন্য ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি চীন সরকারের অর্থায়নে জি টু জি ভিত্তিতে চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড (সিআরইসি) কম্পানির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই কম্পানির সঙ্গে কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩০ মার্চ প্রকল্পটি সিআরইসি কম্পানির মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন হয়েছে। এরপর ৩ মে কমার্শিয়াল কন্ট্রাক্ট নেগোসিয়েশন অনুযায়ী ডিপিপি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। গত ৮ আগস্ট সিআরইসি কম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর ঢাকা থেকে মাওয়া রুটে কমিউটার ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর সেকশনে গুরুত্বপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলো যানজট নিরসনে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের লক্ষ্যে সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গত ৩ মার্চ পরিকল্পনামন্ত্রী একটি সমীক্ষা প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেসব স্থানে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণ প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে প্রকল্প গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ রেললাইনের সমান্তরাল একটি ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিশদ প্রকৌশল ডিজাইনের কাজ চলমান আছে। এ ছাড়া নির্মাণকাজের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য প্রি-কোয়ালিফিকেশন আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে অধিকসংখ্যক কমিউটার ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে। একইভাবে ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এই সেকশনেও অধিকসংখ্যক কমিউটার ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে, যা যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০ সেট (৩ ইউনিটে একসেট) ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ডেমু দ্বারা ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলায় কমিউটার ট্রেন চালু করায় ঢাকা শহরের জানজট নিরসনে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইন পুনর্বাসন করার পর এই সেকশনে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এই সেকশনে ১৬ জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। এই ট্রেনে অধিকসংখ্যক যাত্রী চলাচল করায় তা যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির কাজী কেরামত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, যানজট নিরসনে বাংলাদেশ রেলওয়ের গৃহীত পদক্ষেপ ইতিবাচক। কিন্তু প্রকল্পগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির পক্ষ থেকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।


মন্তব্য