kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দলে দলে শহরে ছুুটছে রংপুরের শ্রমজীবীরা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



‘সামনোত ঈদ। ছাওয়া-পোওয়ার (সন্তানদের) বায়নাও আছে।

তয় এলাকাত কাম (কাজ) নাই। বসি না থাকি এ্যাটে-ওটে যাই। যদি কাম জোটে। ঈদের দিনোত তো একমুট ভালো খাবার নাগবে। ’ এভাবেই কাজের সংকটের কথা বললেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলাল চরের রহমত আলী।

কাজের খোঁজে রংপুর শহরে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব রহমত জানান, আমন ধানের চারা রোপণ প্রায় শেষ। এলাকায় কাজ না থাকায় তিনি শহরে এসেছেন। বিশেষ করে ঈদকে ঘিরে শ্রমজীবী মানুষ শহরমুখী হয়েছে। শুধু রংপুরই নয় অন্য শহরেও যাচ্ছে তারা।

আমন ধান লাগানোর পর কাটার আগ পর্যন্ত অন্তত দুই মাস রংপুর অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকদের তেমন কাজ থাকে না। তাদের কাজের ব্যবস্থা করতে সরকার ৪০ দিনের কর্ম সৃজন প্রকল্প নিয়ে থাকে। কিন্তু এখনো এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। সে কারণে শ্রমজীবী মানুষ শহরে ছুুটছে কাজের খোঁজে।

প্রতিদিন বাইসাইকেলে করে রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, তারাগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী মানুষকে দলে দলে আসতে দেখা যায় রংপুর শহরে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশি বেকায়দায় পড়েছে তিস্তার চরের খেটে খাওয়া পরিবারগুলো।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাজের সন্ধানে শহরে আসা একটি দলের সঙ্গে কথা হয় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশের ফটকের সামনে। দলটিতে রয়েছেন ১০ জন। প্রত্যেকের সাইকেলের পেছনে বাঁধা রয়েছে ডালি, কাস্তে, কোদাল, দা, খন্তাসহ বিভিন্ন কাজের উপকরণ।

গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের একনাথ গ্রামের নুর আলম বলেন, ‘প্রত্যেক দিন বিয়ানে (সকালে) আল্লার নামে বাড়ি থাকি বেরাই। এক দিন কাম (কাজ) জোটে তো দুই দিন খালি হাতে নিরাশ হয়ে ফিরি যাওয়া নাগে। ’

কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল চরের বাদশা মিয়া ও আব্দুস সোবহান বলেন, নিজেদের ‘বিক্রি’ করার জন্য শ্রমিকের হাট বলে পরিচিত রংপুর শহরের শিমুলবাগ, জামতলা মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, বেতপট্টি কিংবা রেলওয়ে স্টেশনে বসে থাকতে হয় সারা দিন।


মন্তব্য