kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কোরবানির পশু জবাইয়ের সরঞ্জামের বাজারে ক্রেতা নেই

কামারের কপালে ভাঁজ

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কামারের কপালে ভাঁজ

ঈদুল আজহা দরজায় কড়া নাড়ছে। ঈদ উদ্‌যাপনে মানুষের প্রস্তুতিও থেমে নেই।

ঈদে কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য দা, বঁটি, চাপাতি, ছুরি, কুড়াল তৈরি ও বাজারজাত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে কামারদের। কিন্তু এ ব্যবসায় মন্দাবস্থা দেখা দিয়েছে। আর এক সপ্তাহ পর ঈদ। কিন্তু বেচা-বিক্রির মন্দাবস্থায় তাদের এখন মাথায় হাত। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপাতি, ছুরি বাজার থেকে কিনে গন্ত্যবে যেতে সাহস পাচ্ছে না অনেকে। ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে এখনো ক্রেতারা বাজারমুখী হয়নি। কামাররা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাদের কাছে রয়েছে কিছু নির্দেশনা। এসব মেনেই কোরবানির পশু জবাইয়ের যন্ত্রপাতি তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ব্যতিক্রম হলে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় নেওয়া হবে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও ঠাটারী বাজারের কামারদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে গিয়ে ভোলা কর্মকার নামের একটি দোকানের সামনে ছোট টেবিল নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেল এর মালিক আলাউদ্দিনকে। দোকানের সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলেই তিনি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউ তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে দোকানে আসছে না। কথা হয় এ দোকানির সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদকে টার্গেট ধরে প্রতিবছর ৫০০ চাপাতি ও কয়েক হাজার ছোট-বড় ছুরি তৈরি করি। সঙ্গে কুড়াল, বঁটি তো আছেই। অন্য বছর ঈদের ১৫ দিন আগে থেকেই ক্রেতাদের চাপ, আনাগোনা শুরু হয়। কিছু পাইকারি বিক্রিও হয়। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র দেখছি। আর এক সপ্তাহ আছে ঈদের, কিন্তু ক্রেতার দেখা নাই। বেচা-বিক্রি নাই বললেই চলে। আমার দোকানের মতো সব দোকানের একই অবস্থা। ’

কারওয়ান বাজারের আরেক দোকানদার মো. রাব্বি বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতির জন্য কেউ চাপাতি, ছুরি ও ধারালো অস্ত্র কিনে নিয়ে বহন করতে অস্বস্তি বোধ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রত্যেক দোকানদারকে বিক্রির রসিদের কপিসহ ক্রেতার সব তথ্য সংগ্রহ করে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব তথ্য রেখেও বিক্রির পর রাস্তায় পুলিশ ধরলে নানা প্রশ্নে জর্জরিত হয় লোকজন। তাই ক্রেতারা খুব সাবধান। এবারের ঈদে আমাদের ব্যবসার অবস্থা একেবারেই নাজুক। তবে যেহেতু এটা খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস, তাই আশা করছি ঈদের আগে পরিস্থিতি হয়তো বদলে যাবে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি, তেজগাঁও) বিপ্লব কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে সাম্প্রতিক সময়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সবারই জানা। আমরা সার্বিক দিক বিবেচনা করেই কাজ করছি। চাপাতি-ছুরি বিক্রেতা যদি একটু কষ্ট করে ক্রেতার কিছু তথ্য রেখে দেয় এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না। ’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের নাগরিকগণ তাদের দৈনন্দিন জীবনে যা যা প্রয়োজন সবই কিনবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। কোরবানি উপলক্ষে ছুরি-চাপাতি কিনবে এটা স্বাভাবিক। আমাদের মাঠে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন তাঁদের এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া আছে। কাউকে হয়রানি করার কোনো সুযোগ নেই। ’

ঈদ উপলক্ষে কামারদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। কামারের পাশাপাশি হার্ডওয়্যারের দোকান, ফুটপাত, ভ্যানেও এখন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কোরবানির বেশ আগে থেকেই কামাররা ঈদ উপলক্ষে অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে। এর মধ্যে বঁটি, দা, ছুরি, চাকু, রামদা, কুড়াল ও শান পাথর রয়েছে। ঈদ আসার তিন-চার মাস আগে থেকেই এসব প্রস্তুত করতে লোহা ক্রয় করে কামাররা। সারা বছর তারা যে টাকা আয় করে এর চেয়ে বেশি আয় হয় কোরবানির ঈদে। কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, চাকু বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। সেই হিসাবে একটি ছোট চাকু ৪০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বঁটি ভালো মানের ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। চাপাতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা চাইছে বিক্রেতারা। ছুরি রয়েছে ১২ ধরনের। একটি ১৮ ইঞ্চি ছুরির দাম ৬৫০ টাকা।


মন্তব্য