kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যশোরে নিরাপত্তা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের উদ্বেগ

কাশেম হত্যায় আটক চারজন, চৌগাছায় হরতাল পালিত

ফখরে আলম, যশোর   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কাশেমকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া কাশেম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গতকাল রবিবার চৌগাছায় হরতাল পালিত হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ বছরে অন্তত ৪০ জন ইউপি চেয়ারম্যান খুন হয়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধ, চোরাচালান, গ্রাম্য রাজনীতি, চিংড়িঘের, হাটবাজার, জলমহল ইজারা, এলাকা দখল ও মাদক কারবারসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সে কারণে ওই অঞ্চলের চেয়ারম্যানরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান সাগর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা বেশির ভাগ চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডে জড়িত। চেয়ারম্যানের খুনের বিচার ও চেয়ারম্যানদের নিরাপত্তারব্যবস্থা করতে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। ’

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট রাতে যশোরের শহরের ষষ্ঠিতলার একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় চেয়ারম্যান কাশেমের লাশ। পরিচয় জানতে না পেরে পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটি দাফন করে ফেলে। গত শনিবার স্বজনরা ছবি দেখে তাঁর লাশ শনাক্ত করে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কাশেম। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। আবুল কাশেম পাশাপোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এর আগে ২০০৯ সালে একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমামুল হাসান টুটুলকে হত্যা করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম হত্যার ঘটনায় গত শনিবার মধ্যরাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চৌগাছা দশপাকিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী, নিহত কাশেমের দেহরক্ষী পাশাপোল গ্রামের আশিকুর রহমান, শুকুর আলীর স্ত্রী ডলি ও কবির হোসেনকে আটক করেছে।

কাশেমের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন বলেন, ‘আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজন আমার স্বামীকে হত্যা করে থাকতে পারে। ’


মন্তব্য