kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হলের দাবিতে ১১ বছরে ছয়বার আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



হলের দাবিতে ১১ বছরে ছয়বার আন্দোলন

১৮৫৮ সালের জগন্নাথ কলেজ ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার ১৯ বছর আগে ১৯৮৬ সালে কলেজটির ১১টি হল প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়।

আবাসন সুবিধার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গত ১১ বছরে ছয়বার মাঠে নেমে আন্দোলন করেছে। সর্বশেষ পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলও এই জায়গার দাবিতে সরকারের উচ্চ মহলে আবেদন জানিয়েছে। অথচ আগের হলগুলো উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। বরং তারা নতুন জায়গার দাবি করছে।

এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল রবিবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২০১৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় ১০ তলার একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, হলগুলো হাতছাড়া হয়ে যায় বেশ আগেই। ওই সব স্থাপনা পুনর্দখল করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের কাজ বা দায়িত্ব হতে পারে না। যদিও ২০০৮ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম খান কর্তৃক পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদন মোতাবেক ১২টি হলের বৈধ কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০০৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অন্তত ছয়বার হল উদ্ধারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। সবচেয়ে বড় আন্দোলন হয় ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি।   ওই দিন পুলিশের হামলায় শতাধিক ছাত্র আহত হয়। এ ঘটনায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলাও করে পুলিশ। অনেক শিক্ষার্থীকে জেল খাটতেও হয়েছে। প্রতিবছর ২৭ জানুয়ারি হল উদ্ধার আন্দোলন দিবস হিসেবে পালন করে শিক্ষার্থীরা।

বেদখল থাকা হল : তিব্বত হল বুড়িগঙ্গার তীরে পাটুয়াটুলী-ওয়াইজঘাট এলাকায় ৮ ও ৯ জিল পার্থ লেনে অবস্থিত। জমির পরিমাণ ৮ দশমিক ৮৯ কাঠা। কিছু অংশ পুলিশ ও কিছু অংশ প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। গুলশান আরা সিটি শপিং মার্কেট নামে একটি মার্কেটেও নির্মাণ হয়েছে।

পুরান ঢাকার তাঁতী বাজারে ৮২, রাধিকা মোহন বসাক লেনে শহীদ সাহাবউদ্দিন হল। জমির পরিমাণ ৪ দশমিক ০৯ কাঠা। ফারহানা নামের এক মহিলা দখলে রয়েছেন।

আবদুর রহমান হলটি ৬, ৬/১, এসি রায় রোড, বটতলা, আরমানিটোলায়। জমির পরিমাণ ২৫ দশমিক ৭৭ কাঠা। নব্বইয়ের দশক থেকে ১৭ পুলিশ পরিবারের বসবাস এখানে। শহীদ আনোয়ার শফিক হলটি ১ শরতচন্দ্র চক্রবর্তী রোডে অবস্থিত। এ হলের জমির পরিমাণ ৪০ কাঠা। দখলদার হিসেবে সামসী ওয়েলফেয়ার সোসাইটিকে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। হলটির পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করে স্থানীয় টিন ব্যবসায়ী মোক্তার আলী গোডাউন তৈরি করেছেন। একাংশের ওপর ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক গড়ে উঠেছে।

সাইদুর রহমান হল ও রউফ মজুমদার হল দুটি ১৬, ১৭, ২৩ যদুনাথ বসাক লেনে অবস্থিত। হল দুটির জমির পরিমাণ ২২ দশমিক ৯৭ কাঠা। ওই জমিতে একটি রিকশার গ্যারেজ, কিছু দোকানপাট ও একটি ব্যাংকের গোডাউন রয়েছে। শহীদ আজমল হোসেন হল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম গেটে পাটুয়াটুলীর ১৬ ও ১৭ নম্বর রমাকান্ত নন্দী লেনে অবস্থিত। এই জমির পরিমাণ ৫ দশমিক ০৫ কাঠা। ১৬ নম্বরের অংশটি একটি শহীদ পরিবার পরিচয়ে দখলে রেখেছে ভূমি জালিয়াতচক্র। ১৭ নম্বরের কিছু অংশ দখল করেছে একটি সমিতি। একটি অংশে পাঁচতলা মার্কেট বানিয়েছে দখলদাররা।

বজলুর রহমান হল বংশালের ২৬ মালিটোলাতে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএ ফার্ম বজলুর রহমান হলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে।

এসব বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা রয়েছে। তবে ইতিমধ্যেই বাংলাবাজারে বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেসা মুজিবের নামে এক হাজার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি ছাত্রী হল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম তলার ছাদ ঢালাই করা হয়েছে। তবে সুউচ্চ ভবন হওয়ায় পাইলিংসহ নানা কাজে বেশ সময় লেগেছে। ’ 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ঢাকার কেরানীগঞ্জে ২০১৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ওই হলে এক হাজার ছাত্র থাকতে পারবে। এ ছাড়া ছাত্রীদের জন্য হল নির্মাণের কাজ চলছে। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জবি শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে জবির জন্য ২৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। এর আওতায় কেরানীগঞ্জে ২৫ বিঘা জমির ওপর ১০ তলাবিশিষ্ট আবাসিক ছাত্রাবাস, শিক্ষকদের আবাসন প্রকল্প, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান ছাত্রী হোস্টেলকে ১৭ তলা ও ২০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে।

পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় হল নির্মাণের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় কারাগারের ওই জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নয়; এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারের জায়গা। এখানে হল নির্মাণের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই। এই জায়গায় হল নির্মাণের বিষয়টি সম্পূর্ণই সরকারের বিবেচনার বিষয়।


মন্তব্য