kalerkantho


ডালিম হোটেলের সামনে মোমবাতি প্রজ্বালন, ধিক্কার

‘মীর কাসেমের ফাঁসি হলো, চট্টগ্রাম কলঙ্কমুক্ত হলো’

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় বন্দরনগর চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ উল্লসিত। গতকাল শনিবার রাতে কাশিমপুর কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড আনন্দ মিছিল বের হয়।

ওই সময় খুশিতে আত্মহারা লোকজন মিষ্টি বিতরণও করে। সবার কণ্ঠে স্লোগান ওঠে—‘মীর কাসেমের ফাঁসি হলো, চট্টগ্রাম কলঙ্কমুক্ত হলো’।

মীর কাসেমের পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জে হলেও বাবার চাকরির সূত্রে ছোটকাল থেকে চট্টগ্রামে থাকতেন। সেখানেই তাঁর লেখাপড়া ও বেড়ে ওঠা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর মানবতাবিরোধী সব অপকর্মও সেখানেই। এই অঞ্চলের আলবদরপ্রধান মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম শহরের যে ডালিম হোটেলকে ‘ডেথ ফ্যাক্টরি’ বানিয়েছিলেন, সেখানকার মানুষও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ডালিম হোটেলের সামনে মোমবাতি প্রজ্বালন করে হাজারো মানুষ। অনেকে ঘৃণা প্রকাশ করে থুতু নিক্ষেপ করে। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ওই এলাকা।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২১ নভেম্বর রাত ১২টার পর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য চট্টগ্রামের সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। একই রকম অপরাধে গত রাতে ফাঁসি কার্যকর হলো মীর কাসেম আলীর। এর মধ্য দিয়ে ৪৫ বছরের কলঙ্ক দূর হলো বলে মনে করে চট্টগ্রামবাসী। একাত্তরে ডালিম হোটেলে মীর কাসেমের নেতৃত্বে নির্যাতনে শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনের মামাতো বোন হাসিনা খাতুনসহ অন্যান্য শহীদ পরিবারের সদস্য ও যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

হাসিনা খাতুন গত রাত পৌনে ১১টায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৪৫ বছর ধরে ফুফাতো ভাইকে (জসিম উদ্দিন) হারিয়ে বুকে যে কষ্ট লালন করেছি তা আজ লাঘব হলো। মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করছি। ভাই হত্যার ন্যায়বিচার পেয়েছি। সত্যের জয় হয়েছে। ’

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শুধু চট্টগ্রামবাসী নয়, দেশের মানুষ আজ ন্যায়বিচার পেয়েছে। মীর কাসেম আলীর ফাঁসি হওয়ায় আমরা আনন্দিত ও উল্লসিত। অপশক্তি ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে। মীর কাসেম আলীর অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। আমরা কলঙ্কমুক্তির পথে। ’

গণজাগরণ মঞ্চের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান বলেন, ‘জীবদ্দশায় একাত্তরের এই কুলাঙ্গার কখনো বাংলাদেশকে বিশ্বাস করেনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। ’

ডালিম হোটেলে নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, ‘মীর কাসেম আলীর অঢেল টাকা আছে। বিচার বন্ধ করতে সে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী বলেই মীর কাসেমের মতো যুদ্ধাপরাধী কোটি কোটি টাকা খরচ করেও পার পায়নি। তার ফাঁসি হওয়ায় আমার মতো অনেক নির্যাতিত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত। ’


মন্তব্য