kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা

সরকার হটানো ছাড়া তারেককে ফেরানো সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরাতে হলে বিএনপিকে সুসংগঠিত করে ক্ষমতাসীনদের হটাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নেতারা। তাঁরা বলেছেন, সুসংগঠিত দল ছাড়া এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে না।

যতক্ষণ না এই সরকারকে হটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে, ততক্ষণ তারেক রহমানকে ফেরানো সম্ভব হবে না।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নবম ‘কারামুক্তি’ দিবস উপলক্ষে এর আয়োজন করে বিএনপি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এ অবস্থা থাকতে পারে না। এখানে এখন গণতান্ত্রিক স্পেস নেই। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‍্যালি পর্যন্ত করতে দেয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ’

মাইনাস টু ফর্মুলার নামে এই সরকার মূলত বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সে জন্যই ওই সময়ের অবৈধ সরকার তারেক রহমানের ওপর বিভিন্ন মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। বিএনপিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর অংশ হিসেবে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে তাঁকে হত্যার জন্য রিমান্ড নিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছে। বর্তমানেও তারেক রহমানকে নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র’ অব্যাহত আছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে ড. মোশাররফ বলেন, ‘যতক্ষণ না এই সরকারকে হটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারব এবং পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে না পারব ততক্ষণ তারেক রহমানকে ফেরানো সম্ভব হবে না। রুমের ভেতরে থেকে শুধু স্লোগান দিলে হবে না, নিজেদের সংগঠিত করে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, যারা সরকারে আছে তারা রক্ত ছাড়া আর কিছু চেনে না। হত্যা, গুম, খুন ছাড়া তাদের কোনো কাজ নেই। দানব সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন রুমের মধ্যে থেকে হবে না। সুসংগঠিত দল ছাড়া এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে না। দলকে সুসংগঠিত করতে পারলে আন্দোলন সফলতা লাভ করবে এবং তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। ’

তিনি বলেন, দেশের যে অবস্থা তাতে শুধু তারেক রহমানই নন, খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র নেতারাসহ মাঠ পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় আসামি। খালেদা জিয়াকে বারবার মামলায় হাজিরা দেওয়ানো হচ্ছে। অথচ সরকারের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা ‘হাজার হাজার মামলা’ প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা।

দলের ভেতরের ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য বিগত দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন।

তিনি বলেন, এক-এগারোর সময় নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়া প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি জেলে ছিলেন। তখন ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে ভুল বুঝিয়ে নির্বাচনে নেয়। পরে আবার যখন সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয় তখন আবার দলের ষড়যন্ত্রকারীরা ভেতরের খবর শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিয়ে আন্দোলন ব্যর্থ করে দেয়। তিনি বলেন, ‘ভাই এই দলের (বিএনপি) আর বোন সরকারি দলের, জামাই সরকারি দলের আর শ্বশুর এই দিকে (বিএনপি), মামা এই দলে আর ভাগিনা সরকারি দলে—এমনটা বন্ধ করতে হবে। এইখানে খাবে আর সরকারি দলের কাছে খবর পৌঁছে দেবে, এদের চিহ্নিত করতে হবে। ’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বারিস্টার আমিনুল হক, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

 


মন্তব্য