kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গাছ চুরির অভিযোগে দুই মামলা

সেই ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সেই ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সেই চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস এখন পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি গাছ চুরির অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে।

মামলার পর অন্য দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও চেয়ারম্যান পলাতক। এ বিষয়ে রাজৈর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই চেয়ারম্যান পলাতক।

‘হাইকোর্টের প্রশ্ন : কে ক্ষমতাধর, বিচারপতি নাকি ইউপি চেয়ারম্যান’ শিরোনামে ১ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠ পত্রিকার শেষ পাতায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের ক্ষমতার উৎস নিয়ে গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করার পর সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হয়। এরপর প্রশাসনের টনক নড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে। কিন্তু আজও তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

উল্লেখ্য, বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর সেদিন প্রকাশ্য আদালতে বলেন, ‘কে ক্ষমতাধর? সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, নাকি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস? প্রশাসন চোরের পক্ষে থাকবে, নাকি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির আদেশ মানবে?’ তিনি বলেন, ‘গত ২৪ আগস্ট আমি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আড়ুয়াকান্দি গ্রামে যাই। আমার এক নিকটাত্মীয়ার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সেখানে যাই। এ সময় এলাকাবাসী কদমবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের একটি মন্দির থেকে ১৬০ ভোল্টের সোলার প্যানেল চুরি করে তা নিজের শ্বশুরবাড়িতে স্থাপন করেছেন চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সরকারি জায়গা থেকে চারটি গাছ কেটে ব্যক্তিগত ভবনে ব্যবহার করছেন। এ সময় সেখানে প্রশাসনের লোকজন ছিল। তাদের অভিযোগের বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়। স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত করে এর সত্যতা পায়। কিন্তু তারা ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সোলার প্যানেল চুরির বিষয়টি ওই চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছলে একদিন রাতের আঁধারে ওই মন্দিরে মাত্র ৬০ ভোল্টের একটি সোলার প্যানেল লাগিয়ে যান। এরপর আবার ৬০ ভোল্টের পৃথক একটি সোলার প্যানেল লাগানো হয়েছে ওই মন্দিরে। এ অবস্থায় মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। কিন্তু তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। আমি বলে আসার পরও ব্যবস্থা নেননি। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির কথা আমলে নেননি। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির কথা তাঁদের কাছে কিছু না। এই হলো অবস্থা। ’


মন্তব্য