kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পদ্মার ভাঙনে ফের বন্ধ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট

ঈদের চাপ সামলাতে প্রস্তুতি

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পদ্মা নদীর ভাঙনে গতকাল শনিবার সকালে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটটি আবার বন্ধ হয়ে গেছে। ফেরি ও ঘাট সংকটের কারণে গতকালও দৌলতদিয়া ঘাটে আটকা পড়ে বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাকসহ শত শত যানবাহন।

সড়কের চার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত হয় গাড়ির সারি।

ঈদের আগে ও পরে ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঈদের সময় ফেরি পারাপারের চাপ সামলানোর প্রস্তুত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকালে ভাঙনের কবলে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩ নম্বর ফেরিঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ঘাটটি পুনরায় চালু করতে  সেখানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) কর্মীরা দ্রুত মেরামতকাজ চালাচ্ছেন। দৌলতদিয়ায় বর্তমানে ২ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট দুটি সচল রয়েছে। তবে বর্তমানে ২ নম্বর ঘাট পন্টুনের তিনটি পকেটের দুটি, ৩ নম্বর ঘাট পন্টুনের তিনটি পকেটের একটি ও ৪ নম্বর ঘাট পন্টুনের দুটি পকেটের একটি পকেট অকেজো হয়ে আছে। এতে ঘাটে ফেরি ভেড়াতে সমস্যা হচ্ছে।

এসব সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে ফেরি সংকট। এ কারণে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। গতকাল দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরোয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ এলাকা পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কে গাড়ির সারি দেখা গেছে। গত শুক্রবার রাতেও দেড় শতাধিক বাস আটকা পড়ে।

ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরের কয়েক দিন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী ও গাড়ির চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। তখন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদের সময় নদী পার হতে আসা অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামাল দিতে ১০টি রো রো (বড়), তিনটি কে-টাইপ (ছোট) ও পাঁচটি ইউটিলিটি ফেরি মিলিয়ে মোট ১৮টি ফেরি প্রস্তুত হয়ে আছে। যাত্রীদুর্ভোগ লাঘবে ঈদের তিন দিন আগে এবং পরের তিন দিন এই  নৌপথে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকসহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। তিনি আরো জানান, কোনো  ফেরি বিকল হলে সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামত করার জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা ‘মধুমতি’ প্রস্তুত হয়ে আছে। এ জন্য ওই মেরামত কারখানার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে বিআইডাব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে কোনো নাব্যতা সংকট নেই। তাই আসন্ন ঈদে ফেরি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ম্যানেজার নুরুল হক মিলন জানান, ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপারের জন্য এ নৌপথে ৩৬টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ ঘোষ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। লঞ্চ ও বাসে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে উভয় ঘাট এলাকায় একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করবেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির কালের কণ্ঠকে জানান, দুই ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনালসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র‍্যাব থাকবে।

 


মন্তব্য