kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষুব্ধ হরিজনরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সরকারি বিধি ভেঙে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তা প্রভাবশালী হওয়ায় বিধি মানছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কয়েক বছর ধরে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ শতাংশ কোটা হরিজন সম্প্রদায়ের (জাত সুইপারদের) জন্য নির্ধারিত। কিন্তু বিধি না মেনে বেশির ভাগ পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে অন্য সম্প্রদায় থেকে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হরিজনরা।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওই হাসপাতালে ১৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্য সম্প্রদায়ের ১৩ জন ও হরিজন সম্প্রদায়ের মাত্র দুজনকে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

পঞ্চাশোর্ধ কমলা রানী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর স্বামী দিলিপ কুমার সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে কাজ করতে করতে মারা গেছেন। তিনিও কাজ করছেন অন্তত ১৫ বছর। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যখনই নিয়োগের বিষয় আসে তখনই নিয়ম ভেঙে নিয়োগ দেওয়া হয় অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের তো কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। ’

সিরাজগঞ্জ স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির নেতা নব কুমার বলেন, ‘নিয়োগে অনিয়মের কথা আমরাও শুনেছি। আমাদের মতে স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারেরই একটা অংশ। তারা নিয়ম বেঁধে দেয়। সেটা না মেনে যখন অন্য নিয়মে চলার চেষ্টা করে কেউ তখন সেটা সরকারের নিয়ম ভাঙার পর্যায় পড়ে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সুরাহা না হলে হরিজনদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যাব। ’

সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার মোদাসসির রহমান জানান, ‘কয়েক বছর ধরে (নিয়োগ) এই নিয়মেই চলছে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে একটা অভিযোগ উঠেছে, সেটার বিষয়ে সিভিল সার্জন সাহেবের সঙ্গে কথা চলছে। ’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মাদ মনজুর রহমান জানান, (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) নিয়োগ নিয়ে একটি জটিলতা হয়েছে। সেটা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে এখানে আগে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা এগুলো (নিয়োগ) মেনে নিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। তবে এবার কোটার বিষয়টি নজরে আসায় সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এটাও ভাবার বিষয়, অভ্যন্তরীণ এ জটিলতা নিয়ে রোগীদের সেবার কোনো অনিয়ম বা সময়ক্ষেপণ করা যাবে না।

হরিজনদের আশঙ্কা, বিধি ভেঙে এভাবে নিয়োগ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তাদের সম্প্রদায়ের মানুষদের আর কোনো কাজই

থাকবে না।


মন্তব্য